,

মিরপুরে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রয়োজনে আরো স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে…. কামারুল আরেফিন


জাহিদ হাসান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে অস্বাভাবিক হারে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম করোনা ভাইরাস রোগীদের সেবা প্রদানের লক্ষে এগিয়ে এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। তিনি কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ সময় তিনি বলেন, জেলার করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার প্রথম তালিকায় রয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। তারপরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে জনগনকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। জনগনকে সচেতন করা, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মানুষকে ঘরে রাখার জন্য মাঠে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মিরপুর উপজেলা প্রশাসন, মিরপুর থানা পুলিশ, সেনা বাহিনী, বিজিবি। এছাড়াও সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনা রোগীদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৩০ জন ছাত্রলীগের কর্মী নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছি। যারা সার্বক্ষনিক পর্যায়ক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা দিচ্ছে। হাসপাতালের বাইরেও সেবা দেওয়ার জন্য এবার গঠন করা হলো মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ১০ সদস্যের একটি এবং আওয়ামী লীগের ২০ সদস্য একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম। এই টিম উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মানুষকে ঘরে রাখতে কাজ করবে।
সেই সাথে করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্তে সহযোগিতা করা, করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লগডাউন করা, তাদের খাবার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে। তিনি আরো বলেন, আমি জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করতে চাই, তিনি যেন আমার এই সেচ্ছাসেবকদের একটি করে আইডি কার্ড দেবেন। তারা যেন এই কাজে প্রশাসনের সহযোগী পায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন, কঠোর বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে শক্ত অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জনগনকে সচেতন করতে, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং মানুষকে ঘরে রাখতে মাঠে রয়েছে মিরপুর থানা পুলিশ, সেনা বাহিনী, বিজিবি। প্রশাসনের সাথে এই স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করলে কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন কার্যকর করা সহজ হবে এবং করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পীযূষ কুমার সাহা বলেন, এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীর ভর্তি আছে ১৬ জন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৪ জন। আমরা এত প্রতিকূলতার মধ্যেও করোনা রোগীদের সর্বাত্মক সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সাথে বিশেষ সহযোগিতা করণে ছাত্রলীগের সেচ্ছাসেবী টিম। এই সেচ্ছাসেবী টিম না থাকলে সঠিকভাবে ভাবে সেবা দেওয়া অনেক কঠিন হতো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল করিম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা, মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জোবাইদা ফারজানা জেরিন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মামুনুর রশীদ মুক্ত, মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ জোয়ার্দ্দার প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category