,

ঘর পাবেন ৮৮ গৃহহীন পরিবারের স্বপ্ন হবে সত্য


বিশেষ প্রতিনিধি, দৌলতপুর ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দফার ৬১ ও দ্বিতীয় ধাপের ২৭টি উপহারের ঘর বিতরণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে উপহারের এই ঘর পেতে ইচ্ছুক প্রকৃত গৃহহীনদের যাচাই-বাছাই করে ৮৮টি পরিবারকে চূড়ান্ত তৈরী করা হয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসব ঘরের চাবি তুলে দিয়ে উদ্বোধন করার মধ্যে দিয়ে এই উপজেলার গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে এসব ঘর বুঝিয়ে দেয়া হবে। এর ফলে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে অনেকটাই এগিয়ে গেল এ উপজেলা। এসব ঘর বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি উপজেলার অন্য গৃহহীনদেরকেও চিহ্নিত করে এই প্রকল্পের আওতায় এনে ধাপে ধাপে তাদের হাতেও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গৃহহীনদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৬১টি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী দৌলতপুর উপজেলার পাঁচটি স্পটে সরকারি খাস জমিতে এসব ঘর তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি গ্রামে ২০টি, মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গ্রামে ১৪টি, রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামে ১১টি, খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের সরিষাডুলি গ্রামে ৮টি এবং দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গোডাউন বাজার এলাকায় ৮টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মান করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরো ২৭টি ঘর নির্মানের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। সব ঘরই দ্রুততার সাথে যাবতীয় কাজ শেষ করা হয়েছে। একেকটি পরিবারের জন্য দুই শতক জমির উপর নির্মিত দুটি করে ঘর ও একটি সংযুক্ত বাথরুমসহ ছোট পরিসরে বারান্দা রাখা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে দৌলতপুর উপজেলায় ৬১টি গৃহহীন পরিবারের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপের ২৭টির জন্য প্রতিটি পরিবারের ঘর নির্মানের জন্য বরাদ্দ হয় ১৯০ হাজার করে টাকা। সারাদেশে সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে একই ডিজাইনে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

এদিকে ঘর বরাদ্দের জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত ২৬৯টি গৃহহীন পরিবারের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাইয়ে করে ভুমিহীন পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়। চুড়ান্ত তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোর হাতে উপহারের এসব ঘরের চাবি তুলে দেয়া হবে।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলো জানান, ঘর নির্মানের জমি ও সামর্থ তাদের ছিল না। তাই রাস্তাঘাটে তাদের জীবন কাটতে হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তারা মাথাগোজার ঠাই পেলেন। নিজেদের ঘরের স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। ঘর উপহার দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দৌলতপুরের এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান পরিবারগুলো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল হান্নান জানান, গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব ঘর নির্মান কাজে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব পরিবারগুলোর জন্য নির্মানাধীন এসব ঘরে বিদ্যুত সংযোগ ও পানির ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, অত্যান্ত সফলভাবে ঘর তৈরীর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব ঘর বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রেও ট্যাগ অফিসার ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ নানাভাবে খোঁজখবর নিয়ে ঘর গ্রহণে ইচ্ছুক প্রকৃত গৃহহীনদের শনাক্ত করে বিতর্কমুক্ত তালিকা তৈরির কাজ চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সপ্তাহখানিকের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা যাবে। আসন্ন ঈদের আগেই গৃহহীনরা এই উপহার পেতে পারেন।
দৌলতপুর আসনের সাংসদ অ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, ‘মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষনা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় দৌলতপুর উপজেলাতেই এইঘর তৈরী ও ভূমিহীনদের মাঝে এসব ঘর বুঝিয়ে দেয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঘর নির্মান ও ভূমিহীনদের তালিকা তৈরীতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সাথে সাথে দৌলতপুরের গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেয়া হবে।
সাংসদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। দৌলতপুরও এর ব্যতিক্রম নয়। রাস্তা, ঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রীজ- কালভার্টসহ উপজেলা প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশের কোন মানুষ যেন খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত না থাকে সে দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category