,

ফেসবুকে সীমাবদ্ধ প্রশাসন, নতুন আক্রান্ত ৫৬, বাড়ছে করোনা


কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ
বার বার বিধি নিশেধ ও সরকারী নির্দেশনা দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না কুষ্টিয়ায়। দফায় দফায় ভার্চ্যুয়াল মিটিং এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে কাজ হচ্ছে না। কেউও মানছে না এসব নির্দেশনা। তবে সচেতন নাগরিকদের দাবী, করোনার মতো মহামারিতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন একে বারে দায় সারা কাজ করছে। শুধু মাত্র ফেসবুক পেজেই নির্দেশনা দিয়ে চলেছে। শহর কিংবা গ্রামের কোথাও জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি এখনো।
এদিকে শনিবার (০৫ জুন) করোনা শনাক্তের হার একটু কমলেও রোববার (০৬ জুন) বেড়েছে প্রায় তার চারগুন।  
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে কুষ্টিয়ায় মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৫৫ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ২৫জন, ২৯ মে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৯৩ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ১৩জন, ৩০ মে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২২০ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৩০জন, ৩১ মে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৬৮ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৩১জন, ০১ জুন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১১৫ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৩১জন, ০২ জুন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২২৮ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৫৪জন, ০৩ জুন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১১৬ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৩৪জন, ০৪ জুন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২১৯ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৩৭জন, ০৫ জুন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৮৩ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ১৫জন।
শনিবার (০৫ জুন) করোনা রোগী শনাক্তের হার একটু কমলেও রোববার (০৬ জুন) তা বেড়ে হয় প্রায় চারগুন। ০৬ জুন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২৩২ জনের, এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় ৫৬জন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “করোনা বিস্তার রোধে আমরা জেলা প্রশাসন থেকে নিশেধাজ্ঞা দিয়েছি। সেই সাথে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য কঠোর হতে উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হছে। এছাড়া আমরা করোনা নির্দেশনা এবং করনীয় সম্পর্কে নিয়মিত ফেসবুকে ব্রিফিং করছি।”
এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে জেলায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন।রোববাররাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। ৬ জুন মধ্যরাত থেকে১৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত জেলায় এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। জারিকরা গণবিজ্ঞপ্তি মোতাবেকজেলায় দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনেখোলা রাখা যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাত আটটার পরখাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কাঁচাবাজার, খুচরা ও পাইকারি বাজারসহ সব ধরনেরব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। তবে খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁগুলো অনলাইনেঅর্ডারের ভিত্তিতে খাবার সরবরাহ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসেখাবার খাওয়া যাবে না।সবধরনের পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয়এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। রাস্তা ও পাড়া-মহল্লারচায়ের দোকান সন্ধ্যা সাতটার পর বন্ধ রাখতে হবে। আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন আসন সংখ্যারঅর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাস্ক পরতে হবে।শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে ¤্রমিকদের নিজনিজ প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category