,

কাজী নজরুল এবং হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে নিয়ে অ্যাগ্রো অ্যালকেমি ও তিথিয়া’র সভা


সাথী আক্তার, আমলা অফিস ॥ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি হাবীবুল্লহ সিরাজীর অকাল প্রয়াণে তাদের স্মরণ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রো অ্যালকেমি’র শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘রেইনবো বুকেট টিম’ এবং কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত সাহিত্যের কাগজ ‘তিথিয়া’র আয়োজনে করোনা পরিস্থিতিতে ভ্যার্চ্যুয়ালভাবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সঞ্চালনা করেন অ্যাগ্রো অ্যালকেমির প্রধান নির্বাহী এবং তিথিয়া’র সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ সাগর। আলোচনা করেন কুষ্টিয়ার তরুণ কথাসাহিত্যিক ইমাম মেহেদী, কবি ও তিথিয়ার সম্পাদনা সহকারী রাসেল আহমেদ এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি ইমরান মাহফুজ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, এই সভা একদিক দিয়ে যেমন আনন্দের তেমনি দুঃখেরও। এই দিনে আমরা যেমন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে পেয়েছিলাম, তেমনি গতরাতে আমরা আমাদের দেশের একজন গুণি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে হারিয়েছি।
কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বক্তারা বলেন, প্রেম অথবা দ্রোহ, তার মতো দরদ নিয়ে সেকথা কেউ বলেনি। তার গান, কবিতা শুধু বাঙালিকে আনন্দই দেয়নি, লড়াই-সংগ্রামে জুগিয়েছে অনুপ্রেরণা। তাইতো বাংলা সাহিত্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আগমন এক বীরের মতোই বলা যায়। যেখানেই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, অসাম্য- সেখানে উচ্চারিত হয় কাজী নজরুল ইসলামের নাম। তার কবিতা, গান ও উপন্যাসে পরাধীন ভারতে, বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। কোমল আর কঠিনে মেশানো এক অপূর্ব ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমে পূর্ণ, বেদনায় নীল। আবার প্রতিবাদে ঊর্মিমাতাল। বাঙালির সব আবেগ, অনুভূতিতে জড়িয়ে থাকা চিরবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের অনন্ত প্রেরণার উৎসও বটে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে নিয়ে বক্তারা বলেন, তার কবিতায় শৈল্পিক সিদ্ধির পাশাপাশি রয়েছে বিষয়ভাবনার সুগভীর বৈচিত্র্য। ব্যক্তির একান্ত মনোলোককে যেমন তিনি নৈর্ব্যক্তিক ব্যঞ্জনায় প্রতিভাসিত করেন, তেমনি সময়-সমাজ-দেশ ও বিশ্বপরিস্থিতির অনায়াস উদ্ভাসন ঘটে তার পঙক্তিঘরের অবয়বে আর অন্তর্গূঢ় অনুভাবনে। এদেশের সংগ্রামশীল ইতিহাস ও মানুষ, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রগতির অভিযাত্রা-রেখা ভাস্বর তার প্রায় অর্ধশত কবিতার বইয়ে।
তারা বলেন, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর গদ্যও যেন তার কবিতারই সহোদরা, আবার তা স্বতন্ত্রও বটে। বিবরণমূলক গদ্যধারার বিপরীতে হৃদয়ী সংবেদনে বিচিত্র-বর্ণিল-ব্যতিক্রম তার প্রাবন্ধিক গদ্যগুচ্ছ; যা ধারণ করেছে বাংলা ও বিশ্বসাহিত্য-সংস্কৃতির নানা প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ। তার আখ্যানমূলক ও আত্মজৈবনিক রচনাও অনন্যতার দাবিদার। এছাড়া অনুবাদ তার আর এক প্রিয় ভুবন যেখানে রুমী কিংবা রসুল হামজাতভকে আমরা বাংলায় পাই তার কারুকলমে। শিশুকিশোর সাহিত্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল। তার অকাল এই প্রয়াণে আমরা মর্মাহত।
সভায় এসময় রেইনবো বুকেট টিমের সঞ্চালনা পর্ষদের সদস্য আসাদুজ্জামান রতন, ফাতেমাতুজ্জহুরা ইভা, আসমাউল হুসনা অনন্যা, নাজিফুল হক, নাজিবুল হক অংকুর, শোয়েব মল্লিকসহ বিভিন্ন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category