,

শিলাইদহের বকুল তলায় রবীন্দ্র প্রয়ান দিবস


কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি চত্বরে বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মহাপ্রয়ান দিবস উপলক্ষে ছোট পরিসরে আয়োজন করা হয়। ঐতিহাসিক বকুল তলায় বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মহাপ্রয়ান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর আয়োজিত ছোট পরিসরে কুঠিবাড়ীর কাস্টোডিয়ান মুখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সারওয়ার মোর্শেদ।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. আকলিমা খাতুন, লেখক গবেষক গৌতম কুমার রায়, নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক লিটন আব্বাস, গণমাধ্যমকর্মী হাসান আলী প্রমুখ।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের স্মারক বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া বক্তব্যে বক্তারা রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম, শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, ও বাঙালী জীবনে এর প্রভাব তুলে ধরেন। সেই সাথে প্রতিবছর জন্ম জয়ন্তী পালনে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখা গেলেও প্রয়ান দিবসকে ঘিরে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য আয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কোন উদ্যেগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আগামী বছর থেকে কবি গুরুর এই মহাপ্রয়ান দিবস পালনের দাবি জানান বক্তারা।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সরওয়ার মোর্শেদ রবীন্দ্রনাথকে বাংলার এক অবিচ্ছিন্ন সত্ত্বা উল্লেখ করে বাঙালী জীবন সমৃদ্ধির প্রধান অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জাতীয় ভাবে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে বেশী করে ছড়িয়ে দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রবিন্দ্রনাথ যেভাবে জীবন সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে পরিব্যপ্ত হয়ে আমাদের সত্য ও সুন্দরের উপলব্ধি জাগ্রত হওয়ার পথ দেখিয়েছেন। একই ভাবে সমধিক গুরুত্বসহকারে রবীন্দ্র চর্চার ক্ষেত্রকেও আরও বিস্তৃত পরিসরে ব্যাপৃত করার কোন বিকল্প নেই।
আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর কাস্টোডিয়ান মুখলেছুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সরকারী ভাবে বিশ^কবির মহাপ্রয়ান দিবস পালনে এখানে কোন উদ্যোগ বা আয়োজন না থাকলেও গত চার বছর ধরে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ছোট্ট পরিসরে ঘরোয়া আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়।
এবছর ঘর থেকে বেড়িয়ে কুঠিবাড়ীর ঐতিহাসিক বকুল তলায় কবিগুরুর ৭৮তম মহাপ্রয়ান দিবস পালনের মধ্যদিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জন্ম জয়ন্তীর মতোই এই প্রয়ান দিবসটি পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করেন।
আলোচনা শেষে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া ও বকুল তলা শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান ও কবিতা আবৃতি হয়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category