,

গেরিলা যোদ্ধাদের আলাদা সম্মান চাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাম্মদ আলী

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে এই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছে। তাদের রাষ্ট্র দিয়েছে সম্মান। মহান মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, পলিটিক্যাল কর্মকর্তা, সাধারন মুক্তিযোদ্ধা, ডাক্তার, নার্স, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠ যোদ্ধা, কৃষক-শ্রমিকরা অংশ নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাহসীকতার পরিচয় দিয়ে জীবন বাজী রেখে বীরত্ত্ব দেখিয়েছেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা।
স্বাধনতার এত বছর পরেও ক্রমস বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা। বয়সের ভারে যারা দিন দিন এক একে চলে যাচ্ছেন আমাদের ছেড়ে। তাদের মনে রয়ে গেছে ক্ষোভ। স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের সঠিক মুল্যায়ন করা হয়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাদের সহযোগিদের মুক্তিযোদ্ধার হিসাবে দেখতে না পাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন। এছাড়াও সে সময়ের রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায়ও তাদের মনে রয়েছে ক্ষোভ।
এদিকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর (গেরিলা নং- ৬৮৭৭, ব্যাচ নং-০৬) ক্ষোভ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত যাচাই-বাছাই, রাজাকারদের তালিকা না প্রকাশ হওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা, শহীদদের জন্য গ্রামে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে করবস্থান না থাকা, স্থানীয় বদ্ধভূমি সংরক্ষন, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি ভিত্তিক সম্মানী না দেওয়া।
তিনি জানান, আমরা যারা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। আমাদের কাজ ছিলো গোপনে শত্রুদের আক্রমন করে মেরে ফেলা। সেসময় আমরা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ না করলেও গোপনে আক্রমন করে তাদের হত্যা করতাম। আমাদের কাজই ছিলো “হিট এন্ড রান”। সেসময় ৮০ হাজার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা অংশ গ্রহণ করি। যারা সকলেই উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার এক ভাষনে বলেন যে, যারা উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত (গেরিলা) তারা জেলায় ও মহকুমায় নিজ নিজ অস্ত্র জমা দিবেন। এছাড়া স্থানীয় বাহিনীসহ অনান্য ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার পিলখানায় অস্ত্র জমা দিবেন। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা নেওয়ার পর জেনারেল এ.জি.এম ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদ প্রদান করা হয়। এবং যুদ্ধ পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ৩ বছরের মধ্যে কোন প্রকার আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে না। তবে যথাযথ সম্মান ও মর্যদা প্রদান করা হবে। এদিকে স্থানীয়সহ অনান্য বাহিনীকে রক্ষিবাহিনী করা হয় এবং তাদের তোফায়েল আহম্মেদ স্বাক্ষরিত সনদ প্রদান করা হয়। এরপরে দীর্ঘ ২৬ বছর আমরা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা কোন সম্মানী ভাতা পায়নি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে এখন ১২ হাজার টাকায় উন্নতি করেছেন। তবে উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা এবং অনান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সমান করা হয়েছে। এটা কোন ক্রমেই গ্রহণযোগ্য না। আমরা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা চাই আমাদের সঠিকভাবে মুল্যায়ন করা হোক এবং সাধারন মুক্তিযোদ্ধা এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি করে ভাতা প্রদান করা হোক।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category