,

পুরুষদেরও ধর্ষণবিরোধী আওয়াজ তোলা উচিত: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ষণ প্রতিরোধে নারী সমাজের পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের পুরুষ সমাজকেও বলবো ধর্ষণটা তো পুরুষ সমাজ করে যাচ্ছে । এই ধরনের জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে পুরুষ সমাজেরও বোধহয় একটা আওয়াজ তোলা উচিত। যারা এই ধরনের জঘন্য কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা উচিত। খালি নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? আমরা নির্যাতিত হয়ে সব চিৎকার করব আর নির্যাতনকারী ও তাদের স্বজাতি যারা আছে তাদেরও এব্যাপারে একটু সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করি।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এরপর সাংবাদিকদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী ধর্ষণের কথা তুলে ধরে বলেন, দুভার্গ্য হলো যে, ধর্ষণটা কিন্তু সবসময় সব দেশেই আছে। এখন একটা জিনিস অন্তত পক্ষে মেয়েরা সাহস করে কথাটা বলে। আমাদের দেশে এমন একটা সময় ছিল, সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই বলতেই পারতো না। আর এ বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা কিন্তু নিচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে এদেরকে ধরা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিচ্ছি।

শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণের মতো নোংরা-জঘন্য কাজ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই (সামিয়া) যে শিশুটাকে ধর্ষণ করল তাকে কিন্তু ঠিকই পুলিশ খুঁজে বের করেছে। এবং গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সে স্বীকারও করেছে। এই ধরনের নোংরা জঘন্য কাজ যারা করছে এরা মানুষ না। কাজেই এদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা সব নিবো।

সদ্যসমাপ্ত চীন সফর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে চীন বলেছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে।

চীন সফরের ফলাফল নিয়ে সোমবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংবাদ সম্মেলনে চীন সফর নিয়ে লিখিত পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

পাঁচ দিনের সফরে গত ১ জুলাই চীনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

রোহিঙ্গারা যাতে শিগগিরই তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য এ সংকটের দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে চীন।

ক্ষমতাসীন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) জানিয়েছে, আপসে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য তারা মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা-সংক্রান্ত নয়টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য এলওসি (লেটার অব এক্সচেঞ্জ) এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি এবং পর্যটন-সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক । এ ছাড়া চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সঙ্গে দুটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা এবং চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনা তিয়েনআনমেন স্কয়ারে হিরোস মেমোরিয়ালে চীনা বিপ্লবের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category