,

ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্টের আক্রমণ, কৃষকের মাথায় হাত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ক্ষেতের ধান সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কী খেয়ে বাঁচব- এই আকুতি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর গ্রামের কৃষাণী জুলেখা বেগমের।

স্বামীর রিকশা চালানোর টাকায় কোনো রকমে সংসার চালিয়ে অন্যের ৪৮ শতক জমি বর্গা নিয়ে বোরো চাষ করেছিলেন তিনি। ক্ষেতে ভালো ফলন দেখে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু তার স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে।

তার ক্ষেতের ধানের শীষে ছত্রাক জাতীয় নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।  কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেছেন। কিন্ত পরের দিন জমিতে গিয়ে দেখেন সব শীষ সাদা।

এ অবস্থা এখন কুড়িগ্রামের নয় উপজেলার বহু কৃষকের। বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন চার লক্ষাধিক কৃষক। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সংক্রমিত ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করেও শেষ রক্ষা পাচ্ছেন না কৃষকরা। প্রথমে ক্ষেতে কোনো এক জায়গায় নেক ব্লাস্ট (গলা পচা) রোগ দেখা দেয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ছে।

যে সব বোরো ক্ষেতে এখনো নেক ব্লাস্ট দেখা দেয়নি, সেসব জমিতে নিয়মিত স্প্রে করেও আতংকে রয়েছেন কৃষকরা। নেক ব্লাস্টের আক্রমণের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে অনেকের।

কৃষি বিভাগের লিফলেট ও পরামর্শ মোতাবেক বোরো ক্ষেতে ট্রাইসাইক্লোজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও প্রতিকার না পেয়ে ওষুধের কার্যকারিতা এবং এই রোগের জন্য এই কীটনাশক প্রযোজ্য কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে কুড়িগ্রামের নয় উপজেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হলেও হঠাৎ করে আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নেক ব্লাস্ট (গলা পচা রোগ)। এ রোগ প্রতিরোধে কৃষকের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। আক্রান্ত ক্ষেতে প্রতিশোধক হিসেবে ট্রাইসাইক্লোজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক এবং ভালো ক্ষেতে প্রতিরোধক হিসেবে কারবেনডাজিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। সংক্রমিত জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। স্প্রে করার পর এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ক্ষেতসহ পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তা প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণসহ নিয়মিত এবং সঠিক মাত্রায় ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষক আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, আব্দুল মজিদ, কাইয়ুম আলী জানান, কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শে তাদের উপস্থিতিতে জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। জমির ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

উলিপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নকুল কুমার বলেন, ‘আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় নেক ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে। আমরা কৃষকদের ট্রুপার, দিপা, সালফাইটার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর যেসব ক্ষেত এখনো সংক্রামিত হয়নি বা কেবলমাত্র দেখা দিয়েছে, সেসব ক্ষেতে প্রতিরোধক হিসেবে কাসোবিন, নাটিভো স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শের বাইরে কিছু ব্যবসায়ী নেক ব্লাস্ট রোগের ওষুধ ছাড়া সাধারণ ধান পচা রোগের ওষুধ বিক্রি করছেন। ওই ওষুধ ক্ষেতে প্রয়োগ করে ব্লাস্ট দমন সম্ভব হচ্ছে না। এ রোগ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে আর যেন কোনো কৃষকের ক্ষতি না হয়।

 

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category