,

ইবির অস্ত্রবাজ মতিয়ার এখন ঢাবির শিক্ষক

ইবি প্রতিনিধিঃ মতিয়ার রহমান এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিন বছর আগে যে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্র চালনার ছবি সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল। সেই এখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই মতিয়ার প্রভাষক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে নিয়োগ পান। সম্প্রতি তাকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয়।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ জলিল বলেছেন, মতিয়ারের ওই কান্ডের কথা তাদের জানা ছিল না। আর মতিয়ার রহমানের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় মতিয়ার ছাত্রলীগের সঙ্গ যুক্ত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের তথ্য। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।
২০১৩ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের নিয়োগ পাওয়ার পর ওই বছরই তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে যোগ দেন। পরের বছর জগন্নাথের চাকরিতে থাকা অবস্থায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে মতিয়ারের ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে তোলপাড় শুরু হয়।
সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মফিজ লেকের কাছে ‘পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তোলা হয় ওই ছবি।
সেখানে পিস্তল তাক করে দাঁড়ানো মতিয়ারের পাশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান বিসিএস ক্যাডার (অর্থনীতি) আজিজুল হক মামুনকে দেখা যায়, যিনি এক সময় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
একই সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ায় মতিয়ার ও মামুনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তখনকার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিবুল ইসলাম সজিবকেও ছবিতে দেখা যায়। তিনিই দুই শিক্ষককে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর।
ওই ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সজিবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
সে সময় দুই শিক্ষকের বিচারের দাবিও তোলা হয়েছিল বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। তবে পরে বিষয়টি আড়ালে চলে যায়। মতিয়ার রহমান অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার হাতে ছিল খেলনা পিস্তল। বাচ্চারা ওই ধরনের পিস্তল নিয়ে খেলাধুলা করে।
তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category