,

হাসপাতালের আউটডোর তো নই, যেন মাছের বাজার !

এস এম সম্রাটঃ কুষ্টিয়া জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন এই স্বাস্থ্য সেবা খাতে। আর এই খাতে সব চেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ । দূর দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সেবা নিতে এসে পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।

সোমবার সকাল ১০ টায় সরেজমিনে হাসপাতালের আউটডোর বিভাগ ঘুরে দেখলে বোঝার উপায় নেই এটা হাসপাতাল।

দেখলে মনে হয় এটা কোন মাছের বাজার! আর সেবা নিতে আসা রোগীরা যেনো মাছ ক্রেতা। যেখানে টাকা হলেই মেলে সকল সুযোগ সুবিধা। চারিদিকে শুধু মানুষদের চিৎকার আর অসহনীয় পরিবেশ যেটা সেবা নিতে আসা রোগীদের সুস্থ হওয়ার চেয়ে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিভিন্ন গুরত্তপূর্ণ ওয়াডে ঘুরলে দেখা যায় শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন। পুরুষ আর মহিলাদের লাইন আলাদা থাকলেও পুরুষ ও মহিলারা পরস্পরের গা ঘেষে দাড়াতে হয়। এছাড়াও লাইন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য নিয়োজিত পুরুষ ও মহিলারা চালায় অনিয়ম। তাদের হাতে ২০ (বিশ ) টাকা ধরিয়ে দিলেই মেলে প্রথম সিরিয়াল। টাকা না দিলে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদের চলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি আর নানা ভোগান্তি। এবং কি রোগীর গায়ে হাত তুলতে দেখা যায়। রোগীদের চিকিৎসকদের রুমে ঢুকতে দেয় না। তাদের আচরণ দেখলে মনে হয় এরাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যেখানে সামান্য টাকার বিনিময়ে অনিয়ম গুলো নিয়মে পরিণত হয় সেখানে জনগণ কি স্বাস্থ্য সেবা আশা করবে?

তাছাড়াও ডাক্তারদের স্বজন প্রীতি এই ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। বৃত্তি পাড়া থেকে আগত একজন রোগী আব্দুর রহমান (৬০) অভিযোগ করে বলেন ভাঙ্গা পা নিয়ে তিন ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও মেলেনি সিরিয়াল। কিন্তুু যারা তার পরে এসেও টাকা দিয়েছে তারা অনেক আগেই ডাক্তার দেখিয়ে চলে গেছেন। আর এই ভোগান্তি কে হাতিয়ার করে দেদারছে ব্যবসা চালাচ্ছে ক্লিনিক গুলো।

এই প্রচন্ড গরমে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের এমন ভোগান্তি আরো অসুস্থ করে তোলে। তাই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ও ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category