,

কালবৈশাখী ঝড়ে কুড়িগ্রামে নিহত ১

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার প্রায় ২ হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় রাজিবপুরে ঘরের উপর গাছ পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, শনিবার বিকেলে ও রবিবার ভোররাতে জেলার চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার উপর দিয়ে কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে যায়। দুদফা ঝড়ে প্রায় ২ হাজার ঘর-বাড়ি ও প্রায় ২শ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে রবিবার ভোরে ঝড়ের সময় রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের দিয়ারচর গ্রামের আব্দুস সামাদের থাকার ঘরের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে তার স্ত্রী সজি খাতুন (৩৮) নিহত হন। এসময় আহত হয় আব্দুস সামাদ।
রাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তালেব ফকির জানান, তার এলাকার খামার বাঁশপাতারী, মাইজবাড়ী, খারুভাঁজ, ডাটিয়ারচর, নটারকান্দি, ছালিপাড়া, মুদাফৎকালিকাপুর ও চর মুদাফৎকালিকাপুর এলাকাসমূহে প্রায় ১ হাজার টিনের ঘরের চাল উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এছাড়াও ঘরের টিন উড়ে দুটি গরুর পেট কেঁটে মারা যাওয়াসহ মোট ২৫টি গরু ও ২০জন মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে ডাটিয়ার চরের মোন্তাজ আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি আরো জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৩’শ একর জমির বোরো ধানসহ পিয়াঁজ ও পাটের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে দু’দফা ঝড়ের আঘাতে নয়াবশ, মজারটারী, দক্ষিণওয়ারী, জকরিটারী ও খারুয়ারপাড় এলাকার প্রায় শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টির পানিতে চাঁচলার বিল, কয়ার বিল, শৈল ধুপড়ির বিল ও মুনগির বিলে পানিবন্দি হয়ে তলিয়ে গেছে একরের পর একর বোরো ধান।
এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম জানিয়েছেন, গোটা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category