,

ইবির শিক্ষকের অশ্লীল প্রেমালাপ ফাঁস!

ইবির প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত বিভাগ ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদের অশ্লীল অডিও ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। তিনটি অডিওতে আসাদ তার বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মৌসুমী আক্তার নামে এক ছাত্রীর সাথে ফোনে দৈহিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। অডিও ক্লিপ তিনটির ১ম টি ২৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড, ২য় টি ২৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড এবং তৃতীয় টি ১৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের।
জানা যায়, আসাদুজ্জামান তার বিভাগের ছাত্রী মৌসুমী আক্তারের সাথে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার সাথে দীর্ঘদিন ফোনে কথা বলা, বিভিন্ন স্থানে দেখা করাসহ শারিরীক সম্পর্ক করেছেন বলে ইঙ্গিত রয়েছে অডিও ক্লিপে এবং মৌসুমী ও তার মায়ের দেওয়া আবেদন পত্রে। একপর্যায়ে আসাদুজ্জামানের সকল চাহিদা পূরণ হলে তার ছাত্রী মৌসুমীর নিকট থেকে ধীরে ধীরে সরে পড়েন তিনি।
গত ১০ এপ্রিল মৌসুমী ও তার মা হাসি বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বরাবর একটি আবেদন পত্র দাখিল করেন।
আবেদন পত্রে মৌসুমী উল্লেখ করেছে, তার বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও অনেক জোরাজোরি করে তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করেছে বলেও উল্লেখ করেছে সে। কিন্তু বর্তমানে তার শিক্ষক আসাদুজ্জামান তার সাথে কোন যোগাযোগ রক্ষা করছে না।
এজন্য ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে মৌসুমী আক্তার।
এছাড়া, একই দিনে মৌসুমীর মা হাসি বেগমও ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নিকট আবেদন পত্র দাখিল করে। হাসি বেগম তার আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ে মৌসুমীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করেছে। তিনি অনেক নিষেধ করলেও তার কথা না শুনে আসাদ তাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমন প্রতারণামূলক কাজের জন্য ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন হাসি বেগম।
অশ্লীল এই অডিও প্রেমালাপ ফাঁস হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচরীদের মধ্যে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এ বিভাগ সম্পর্কে।
এ বিষয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মৌসুমী আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এতদিনের প্রেম যখন তিনি অস্বীকার করছিলেন, আমি তাকে কন্ট্রোলই করতে পারছিলাম না। তখন আমি ভিসি স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি। তদন্তের পর আরো কিছু অনেক কিছু আপনারা জানতে পাবেন”।
এবিষয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিতর্কিত সেই শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যা। একটি চক্র আমাকে হেয় করতে এ চক্রান্ত করেছে। ”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুনির্দ্দিষ্ট প্রমান মিললে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category