,

শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি সংকট

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩০-৩৫ ফিট নিচে নেমে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যবহার ও খাবার পানির সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আবার পানি সংকটে চলতি বোরো মৌসুমের কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। স্যালো দিয়ে জমিতে পানি দিলেও উঠছে কম। যে কারণে সেচ খরচ তাদের বাড়ছে।

এদিকে যশোর পৌরসভা পানির দাম বাড়ালেও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার গৃহবধূ নাজমা বেগম জানান, পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি তাদের দ্বিতল ভবনে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার টিউবয়েলেও পানি উঠছে না। যে কারণে তিনি সাবমার্চেবল টিউবয়েল বসানো পাশের বাড়ি থেকে পানি নিচ্ছেন।

শুধু ওই গৃহবধূ নয়, বেজপাড়াসহ পৌর এলাকার প্রায় সব বাড়িতে এখন পানি সংকট দেখা দিয়েছে। টিউবয়েলে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ খাবার পানির জন্য শহরের মধ্যে বসানো মুসলিম এইডের গভীর নলকূপে পানির জন্য দীর্ঘ লাইন দিচ্ছে।

যশোর বিএডিসি (সেচ) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পানির স্তর ৩০-৩৫ ফিটে নেমে গেছে। পানি স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় ২২ ফিট থাকলে। যেকারণে টিউবয়েলে পানি উঠছে না। এখন যশোরে জেলায় বোরো ধানের আবাদ চলছে এক লাখ ৭৯ হাজার ২১২ হেক্টর জমিতে। যেখানে স্যালো মেশিন ব্যবহার হচ্ছে ৭১ হাজার ৬৫৩টি। পাওয়ার পাম্প রয়েছে এক হাজার ৬টি। ডিপটিউবয়েল আছে এক হাজার ৫৮৪টি। সাধারণত মাটির নিচে লেয়ার ২৪ ফিটে নামলে পানি কম ওঠে।

যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকায় পানির স্তর ৩৪-৩৫ ফিটে নেমে এসেছে। গত বছর নেমেছিল ৩১ ফিটে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) হাফিজুর রহমান জানান, ২৯টি গভীর নলকুপ দিয়ে তারা পানি উত্তোলন করছেন। তাদের গ্রাহকদের পানির চাহিদা রয়েছে এক কোটি ৬৫ লাখ লিটার। সেখানে তারা ৯৫ লাখ লিটার পানি কম সরবরাহ করছেন।

তার মতে, অপরিকল্পিতভাবে মোটর লাগিয়ে পানির তোলার কারণে পানির স্তর ক্রমেই নামছে। যদি দ্রুত বৃষ্টি না হয়ে এভাবে চলতে থাকে তাহলে পানি সংকট আরও বাড়বে। তবে পৌর এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, পৌরসভা ঘোষণা না দিয়েই পানির বিল ৬০ টাকা বাড়িয়েছে। আবার পানি সরবরাহের সময় কমিয়ে দিয়েছে। যেকারণে তারা পানি পাচ্ছেন না। আবার পানি পাওয়া গেলেও তার গতি খুবই কম।

যশোরের শার্শা উপজেলার শালকোণা গ্রামের সাহেব আলী জানান, তার ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ চলছে। স্যালো দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন। তবে পানির গতি কম।
যশোর বিএডিসির (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম বলেন, অপরিকল্পিভাবে মানুষ স্যালো ও ডিপটিউবয়েল বসাচ্ছে। যেকারণে পানির অপচয় বেশি হচ্ছে। বারিদ পাইপ দিয়ে এসব টিউবয়েল বসালে পানির অপচয় ৪০ শতাংশ কমে যেত।

এ ব্যাপারে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, পুকুর ও বিভিন্ন জলাশয় ভারট হচ্ছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার নদী দখল হবার কারণে তার পরিধি কমছে। যেকারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। যদি দ্রুত বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে এটি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category