,

মদ্যপ অবস্থায় পুলিশকে গালিগালাজ

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলীকে (৪২) মাতাল অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাগমারা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে যুবলীগ নেতা ফেরদৌস আলী চুরির ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে থানায় পাঠান। থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা চুরির ঘটনায় অভিযোগের পরিবর্তে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শের বিষয়টি মোবাইল ফোনে যুবলীগ নেতা ফেরদৌসকে জানান।

এর কিছুক্ষণ পর ফেরদৌস মোবাইল ফোনে ওসির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কেন অভিযোগ নেওয়া হবে না- এ বিষয়ে ওসির কাছে কৈফিয়ত চান যুবলীগ নেতা ফেরদৌস। একপর্যায়ে ওসিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন। পরে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হুমায়ন কবীরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়ও একই ধরনের আচরণ করেন ফেরদৌস।

এসআই হুমায়ন কবীর বলেন, ‘যুবলীগ নেতা ফেরদৌস ওসি স্যার এবং আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তিনি আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি আমরা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে আটকের নির্দেশ দেন।’ 

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বাগমারা থানা পুলিশের একটি টিম যুবলীগ নেতা ফেরদৌসকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে। রাত ১২টার দিকে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ভবানীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ মোড়ে ফেরদৌসকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের দেখে তিনি আবার গালিগালাজ শুরু করেন। তখন তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে ভর্তি করা হয় বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক হাসনাতুল রাব্বী জানান, রাত ১২টার দিকে ফেরদৌসকে পুলিশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। এ সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। অতিরিক্ত মদ পানের কারণে তাকে সুস্থ করতে সময় লাগে। পাইপের মাধ্যমে তার পেট থেকে মদজাতীয় পদার্থ বের করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর ভোর ৫টার দিকে ফেরদৌসকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশকে হুমকি এবং গালিগালাজের অভিযোগে এএসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা ফেরদৌস আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ কারণে তাকে মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুর ১২টায় পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, যুবলীগ নেতা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি ভবানীগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান টুকুর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

২২ মার্চ বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় তার সহযোগী যুবলীগ নেতা ফেরদৌসসহ অন্যরা ওই প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় প্রকৌশলী রেজাউল করিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category