,

শেষ হচ্ছে জঙ্গিনেতা মুফতির অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক :  শেষ হতে যাচ্ছে তিন জঙ্গির অধ্যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রাক্তন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা মামলায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি (হুজি) প্রধান জঙ্গিনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার দুই সহযোগীর ফাঁসি যেকোনো সময় কার্যকর করতে প্রস্তুত কারা কর্তৃপক্ষ।

মুফতির ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘জঙ্গিদের ফাঁসি দিতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাঁসি দেওয়া হবে। তাকে ফাঁসি দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।’
কারা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ‘রোববার বিকেল পর্যন্ত মুফতি হান্নানকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ফাঁসির দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য জল্লাদ, ফাঁসির মঞ্চ ঠিক করা থেকে ফাঁসির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কারাগারের আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়েছে। আরো কিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেই মুফতিসহ অন্য জঙ্গিদের ফাঁসি চূড়ান্ত করা হবে। এজন্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায়-দফায় বৈঠকও করছেন।

র‌্যাব ও সিআইডি থেকে জানা গেছে, আফগানিস্তানে সশস্ত্র জঙ্গি হামলা এবং প্রশিক্ষণ শেষে ৯০-এর দশকে দেশে ফেরেন মুফতি আব্দুল হান্নান। ওই সময় তার সঙ্গে দুই থেকে আড়াইশ আফগানফেরত যোদ্ধা দেশে এসে অবস্থান নেয়। তারা উগ্র মৌলবাদের নামে শুরু করে জঙ্গি কর্মকাণ্ড। জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে হুজির যাত্রার ঘোষণা দেয় মুফতি হান্নান। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সশস্ত্র জঙ্গি হামলা, এর পরিকল্পনা, ভয়ঙ্কর জঙ্গি তৈরি করা ছিল মুফতির অন্যতম কাজ। ১৩টি ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা করে। এসব হামলায় ১০১ জন হত্যা এবং ৬০৯ জন আহত হন।

’৯৯ সালে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। যারা এখনো স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারেননি। অবশ্য এ হামলার দায় মুফতি আদালতে নিজেই স্বীকার করেন। খুলনার আহমদিয়া মসজিদে হামলা করে আটজনকে হত্যা, ২০০০ সালের জুলাই মাসে কোটালিপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা, ২০০১ সালে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও সিপিবির সমাবেশসহ ছয়টি বোমা হামলাও মুফতি হান্নান ও তার জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ জড়িত। মুফতির নির্দেশে সবচেয়ে জঘন্য হামলা ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা করার কথা মুফতি আদালতে স্বীকার করেছে। এ হামলায় ২৪ জন নিহত হন। আর্জেস গ্রেনেডের আঘাতে আহত হন অগণিত মানুষ। এক বছর পর প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ পাঁচজনকে হত্যাসহ ১৬টি মামলায় বিচারের মুখোমুখি জঙ্গি এ নেতা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের অক্টোবরে খুলনায় দুই বিচারক হত্যার দায়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ একই মামলায় শায়খ আব্দুর রহমানসহ জেএমবির শীর্ষ ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category