,

যে কারণে খুন হলেন ঝিনাইদহের দুই ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের নৈহাটি মাঠ থেকে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন: ঝিনাইদহ শহরের ব্যপারীপাড়ার আব্দুল মজিদ ড্রাইভারের ছেলে মফিজুর রহমান (২৮) ও একই পাড়ার কোরবান আলীর ছেলে মানিক হোসেন (২৬)। নিহত দু’জন মামাতো-ফুপাতো ভাই। মফিজুর রহমানের মামাতো ভাই মানিক।

নিহত দুজনের একজনের পরিবার বলছে, হোটেলে খাবার খাওয়ার সময় কে বা কারা তাদের তুলে নিয়ে যায়। আর পুলিশের ভাষ্য, তারা শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মফিজুর রহমানের ভাই আলমগীর হোসেন বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এরা দু’জন নিজ এলাকা থেকে শহরের পায়রা চত্বর এলাকার একটি হোটেলে খেতে যায়। সেখান থেকে কে বা কারা তাদের দু’জনকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর রাতে তাঁরা আর বাড়ি ফেরেনি।

মানিকের ভাই রতন মিয়া বলেন, সকালে তারা খোঁজ পান তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মাঠে দুটি লাশ পড়ে আছে। সেখানে ছুটে গিয়ে তাঁরা লাশ দুটি শনাক্ত করেন।

এ ব্যাপারে শহরের পায়রা চত্বর এলাকার হোটেলগুলোতে খোঁজ নিতে গেলে তারা জানিয়েছেন, তাদের হোটেল এলাকা থেকে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে তারা দেখেননি।

এলাকাবাসী অবশ্য বলছে, এরা দু’জনই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাঁরা দীর্ঘদিন পাড়ায় এই ব্যবসা করে আসছিল। তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। এমনকি দুই যুবকের মৃত্যুর খবরে কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করেছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

সদর থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, সকালে তেতুলবাড়িয়া গ্রামের নৈহাটি মাঠের ধান ক্ষেতে দুইটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে লাশ দুইটি উদ্ধার করে। লাশের পাশে তিন প্যাকেটে এক হাজার পিচ ইয়াবা ও একটি ছুরি পড়ে ছিল। নিহত মফিজুরের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৪টি ও মানিকের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। কেউ তাঁদের মেরে ফেলে রেখে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুরিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, নিহত মানিক ও মফিজ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী। সম্প্রতি ঝিনাইদহে প্রশাসনের মাদক বিরোধী ব্যাপক অভিযানের কারনে নিহতরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গাঢাকা দেয়। তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ব্যাপারীপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী ও উঠতি বয়সী সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান ও মানিক নিহত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এখন অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারা গোটা ব্যাপারীপাড়ায় সন্ত্রাস ও মাদকের রামরাজত্ব কায়েম করে এক বিভিষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। নিহতদের দলে এখনো ৮/১০ জন সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। বিশেষ করে মফিজের বাবা মজো ড্রাইভার ও মানিকের বাবা কোরবান আলী দুই যুগের বেশি সময় ধরে ঝিনাইদহ জেলায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। র‌্যাব ও পুলিশের হাতে এরা একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারো অন্ধকার জগতে ফিরে যায়।

নিহত মফিজের ছোট ভাই তরিকুলকে গত কয়েকবছর আগে ঝিনাইদহের গুলশানপাড়ায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category