,

ঝিনাইদহে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

ঝিনােইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের নৈহাটি মাঠ থেকে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন: ঝিনাইদহ শহরের ব্যপারীপাড়ার আব্দুল মজিদ ড্রাইভারের ছেলে মফিজুর রহমান (২৮) ও একই পাড়ার কোরবান আলীর ছেলে মানিক (২৬)।

তাদের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি করে মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মফিজুর ঝিনাইদহ শহরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং মানিক উঠতি সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে স্থানীয়রা দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ মাঠে পড়ে থাকতে দেখে সদর থানায় খবর দেয়। এলাকাবাসী জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে বা আজ ভোরে ওই এলাকায় কোনো গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, সকালে তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের নৈহাটি মাঠের ধান ক্ষেতে ২টি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সেখান থেকে লাশ ২টি উদ্ধার করে। লাশের পাশে তিন প্যাকেট ইয়াবা ও একটি ছুরি পড়ে ছিল।

ওসির ধারণা, মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে কেন্দালের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাঁদের মেরে ফেলে রেখে গেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানান হরেন্দ্রনাথ সরকার।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, শহরের ব্যাপারীপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী ও উঠতি সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান ও মানিক নিহত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এখন অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের বেশ কয়েকজন জানান, নিহত মফিজুর ও মানিক গোটা ব্যাপারীপাড়ায় সন্ত্রাস ও মাদকের রাজত্ব কায়েম করে এক বীভিষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ওই দলে এখনো ৮/১০ জন সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। বিশেষ করে মফিজের বাবা মজো ড্রাইভার ও মানিকের বাবা কোরবান আলী দুই যুগের বেশি সময় ধরে ঝিনাইদহ জেলায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। র‌্যাব ও পুলিশের হাতে এরা একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারো অন্ধকার জগতে ফিরে যায়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category