,

ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া গুরুদাসপুর থানার আনোয়ার

নাটোর প্রতিনিধিঃ বিনা অপরাধে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে এসে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জেলার গুরুদাসপুর থানার এএসআই  আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

হুট করে ধরে নিয়ে থানায় এনে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। কাঙ্খিত টাকা না পেলে মাদক মামলায় জড়িয়ে পাঠানো হয় জেলহাজতে। এএসআই আনোয়ারের হয়রানির শিকার ভুক্তভোগিরা এর প্রতিকার চান। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে আনলে সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুর থানার নাজিরপুর গ্রামের ‘নাজিরপুর কমিউনিকেশনে’র স্বত্বাধিকারী ক্যাবল ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা। এলাকায় ডিশ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত এই ব্যক্তিকে আনোয়ারের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ হঠাৎই ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে এএসআই  নিজেই লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে মাদক মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে পাঠায় তাকে।

ডিশ ব্যব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা জানান, কিছুদিন আগে আমি এক বিয়েতে গিয়েছিলাম। বিয়ে থেকে বরযাত্রীদের সাথে ফেরার পথে ফোন আসলো যে, মৌখড়ায় আমার ক্যাবল লাইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরে তরিঘরি করে আমি মৌখড়ায় গিয়ে লাইন মেরামত করতে থাকি। এসময় আনোয়ার কয়েকজন পুলিশসহ আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে তিনি আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধরের ভয় দেখিয়ে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরে হাজাই মাস জেল খেটে আমি বের হয়ে আসি।

আনোয়ারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাশ্ববর্তী কুমারখালি গ্রামের মোশাররফ হোসেনেরও। মোশাররফ হোসেন বলেন, একদিন আমার বাসায় কয়েকজন আত্মীয় বেড়াতে আসে। আতিথীদের দুপুরে আপ্যায়নের সময় হঠাৎ এএসআই আনোয়ার পুলিশসহ আমার পুরা বাড়ি ঘিরে ফেলে। আমি তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, কিছুক্ষণ আগে তুমি পাঁচ থেকে ছয় কেজি গাঁজা নিয়ে বাসায় ঢুকেছো। একথা বলার পরপরই এএসআই আমাকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে আমার চারজন অতিথিসহ থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে সে আমাদের কাছ থেকে একলাখ টাকা দাবি করে। রাতে আমার পরিবারের সদস্যরা তার হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেয়। তারপরেও আমাকে থার্টিফোরে চালান করে দেয়।

একই গ্রামের স্যানেটারি ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল জানান, তাকে ধরে নেওয়ার সময় তার ছেলে আনিস কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাকেও আটক করে এএসআই আনোয়ার। পরে থানায় নিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে বাপ-ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয় এ.এস.আই আনোয়ার।

শুরু নাজিরপুর আর কুমারখালি নয়। আনোয়ারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন গুরুদাসপুর থানাধীন বীরবাজারের মকবুল, গোপিনাথপুরের শহীদুল, ইমাদারপাড়ার রাসেলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে, নারীদের সাথেও অশালিন আচরণ করেন আনোয়ার।

সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা জানান, এএসআই আনোয়ারের দৌরাত্বে রীতিমতো আতংকিত সাধারণ জনগণ। ছেলে বুড়ো কিছুই দেখছে না তিনি। গ্রামের নিরীহ মানুষজন তার দ্বারা অনেক হয়রানির শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুত পুলিশি হয়রানি থেকে প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে জানতে গুরুদাসপুর থানায় গিয়ে এএসআই আনোয়ারের মুখোমুখী হলে তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনুমতির অজুহাতে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে গুরুদাসপুর থানার ওসি দীলিপ কুমার দাস জানান, আমার এখানে গত একবছরে দেড়’শ মাদকের মামলা হয়েছে। এতে একজন করে আসামি গ্রেফতার হলেও দেড়শ’ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। যার বেশির ভাগ মামলার বাদী আনোয়ার। তাই তার প্রতি মাদক ব্যবসায়ীরা মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। কাজ করতে গেলে দু’একটা ভুল ভ্রান্তি হতেই পারে।

তবুও  এএসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করবেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category