,

আর্সেনিক আক্রান্ত হাজারো মানুষ

রুদ্র প্রতাপঃ ‘আমি ও আমার স্ত্রী গত ১৫-১৬ বছর আর্সেনিকে আক্রান্ত। প্রথম প্রথম কিছু লোকজন এসে খোঁজ খবর নিত এখন আর তারা আসেও না, কোনো খোঁজও নেয় না। আমাদের নিয়ে দেশের কোনো মাথাব্যথা নেই। চেয়ারম্যানও কোনো খবর নেয় না।’কথাগুলো বলছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় তালিয়ান গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ আকাল উদ্দিন।

একই গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম জানান, গ্রামের নারী-শিশুসহ প্রায় সকলেই আর্সেনিকে আক্রান্ত। প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। শরীরে নানা স্থানে ক্ষত নিয়ে ধুকছেন অনেকেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কোনো ওষুধই পাওয়া যায় না তাই হাসপাতালে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

ইতোমধ্যে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন খোর্দ্দ তালিয়ান গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে ইউসুফ মন্ডল, গোহর আলী বিশ্বাসের স্ত্রী সমোত্তবান খাতুন ও মাঝদিয়া গ্রামের ইজ্জত আলী ও একই গ্রামের জয়দেব।

গৃহবধূ বেগম জানান, শরীর ও হাত-পা চুলকায়। জ্বালাপোড়া করে। সারা গায়ে ফুসকুড়ির মতন। আর্সেনিক বিষ দুর্বিসহ করে তুলেছে ওই এলাকার মানুষের জীবন যাত্রা।

ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে কালীগঞ্জ উপজেলায় আর্সেনিক বিষয়ে একটি জরিপ করা হয়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রায় ১০টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামে আর্সেনিক রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ওইসব গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে রয়েছে আর্সেনিক।

ওই জরিপে সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নে ৫.৩৭% নলকুপে, জামাল ইউনিয়নে ১২.৮৫%, কোলা ইউনিয়নে ১৮.৯৪% নলকুপে, নিয়ামতপুর ইউনিয়নে ৮.৯২% নলকুপে, সিমলা রোকনপুর ইউনিয়নে ৩.৮৬%, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে ২.২২% নলকুপে, রায়গ্রাম ইউনিয়নে ৪.৯৯% নলকুপে, মালিয়াট ইউনিয়নে ১৩.৮৯% নলকুপে, বারবাজার ইউনিয়নে ২৭.৩০% নলকুপে, কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নে ১০.০৮% নলকুপে, রাখালগাছি ইউনিয়নে ৪.৪৩% নলকুপে এবং কালীগঞ্জ পৌরসভায় ৪.৪৮% নলকুপে আর্সেনিক পাওয়া যায়।

টিউবওয়েলগুলোতে লাল চিহ্ন দেওয়া হয় এবং তা পান করার জন্য নিষেধও করা হয়। কিন্তু আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার কারণে নতুন করে গভীর নলকুপ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই পান করছে ওই পানি। ফলে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে আর্সেনিক রোগীর সংখ্যা।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের প্রাক্তন আরএমও ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, আর্সেনিক একটি মরণব্যাধী। আর্সেনিকের সঙ্গে সঙ্গে আরও নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে থাকে এ ধরনের রোগীরা। সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা না হলে এ রোগে মৃত্যু অনিবার্য।

ঝিনাইদহ জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রশিদুল আলম স্টারমেইল টােয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আর্সেনিক সমস্যা সমাধানে এখন কোনো প্রকল্প হাতে নেই। ২০০৩ সালে আর্সেনিকের প্রকল্প ছিল। সেই প্রকল্পটি এখন চালু নেই তাই ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নলকুপগুলোর আর্সেনিক সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category