,

‘তিস্তা চুক্তি সময়ের ব্যাপার

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিস্তাসহ কিছু অভিন্ন নদীর পানি বন্টনের বিষয় আছে। গঙ্গার পানি বন্টনে সময় লেগেছে। এই প্রক্রিয়ায় যেহেতু রাজ্যের বিষয় আছে। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও দিল্লীতে থাকছেন। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। এখন তা সময়ের ব্যাপার। এবারের সফরে তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টনে নতুনভাবে আরো অগ্রগতি হবে। গঙ্গা চুক্তি যখন হয়েছে, আমার মনে হয় তিস্তা চুক্তিও হয়ে যাবে।

শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথের পরিদর্শন বাংলো ‘বন বিলাস’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন ৪১ বছরেও কেউ করেতে পারেনি। যেটা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভারতের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ চুক্তির বাস্তবায়ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি দুনিয়ার ইতিহাসে নেই, এরকম নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ছিটমহল বিনিময়। ছিটমহল শধু বিনিময়ই হয়নি। ৩৫টি ছিটমহলে ইউপি নির্বাচনও এর মধ্যে আমরা সম্পন্ন করেছি।

ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার এই ভারত সফর সফল হবে। উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আগামী দিনে অমীমাংসিত আরো যে সব সমস্যা থাকবে, সেগুলো সমাধানের পথও প্রশস্ত করবে।

তিনি বলেন, ভারতের সাথে আমাদের দুঃসময়ের বন্ধুত্ব। ভারতের সঙ্গে আমাদের মাঝে ২১ বছর সম্পর্কটা খারাপ পর্যায়ে ছিল। অবিশ্বাস আর সন্দেহের দেয়াল উঠেছিল। সম্পর্ক খারাপ রেখে কোনো ন্যায্য পাওনা পাওয়া যায় না। সেটা আমাদের ইতিহাসই প্রামাণ করে। ভারত বিদ্বেষী প্রচারণা করে, ভারত বিরোধী প্রপাগান্ডা করে, ভারতের কাছ থেকে প্রতিবেশি হিসেবে আমাদের ন্যায্য পাওনা যেটা সেটা আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে। আমরা মনে করি সুসম্পর্ক বজায় রেখেই আমাদের ন্যায্য পাওয়া বুঝে নিতে হবে। ভারতের সাথে যুদ্ধ করে, বৈরিতা করে আমরা আমাদের ন্যায্য কিছু পাবো না। আমরা যেহেতু আমাদের বন্ধুতের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। যে কারণে ৪১ বছরে ভারতের সাথে আমাদের সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। এটা একটা কঠিন কাজ ছিল, চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল।

বিএনপির মহাসচিবের র‌্যাব বিলুপ্তির বক্তব্যের ব্যাপারে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, র‌্যাব বিএনপির সৃষ্টি। স্বার্থে লাগলে নিজেদের সৃষ্ট সন্তানদের প্রতিও মায়া থাকছে না। আমার কাছে মনে হয়, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে র‌্যাবের ইদানিংকালের কিছু সাহসী অভিযান এবং ভূমিকা বিএনপির গাত্রদাহের কারণ।

এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস, সওজ-এর তত্ববধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ছানাউল হক, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক লে. ক. নিজাম উদ্দিন আহমদ, প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর মো. মিজানুর রহমান ফকির, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ডিএকে নাহিন রেজা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার ও মো. সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category