,

জীবনযুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য রীতা রাণী রায়

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃজীবন মানে যুদ্ধ এই কথাটা প্রমাণ করলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রীতা রাণী রায়। প্রতিবন্ধীকতা আর দারিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত মা জ্যোৎস্না রানী রায়কে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন পূরণের শেষ পর্যায়ে অবস্থান করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী  রিতা রানী রায়। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন শেষ হলেই সরকারি চাকরি প্রাপ্তির আশায় রয়েছেন। তখন বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বাকী জীবন সুখে শান্তিতে কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন শরীরিক প্রতিবন্ধী রিতা রানী রায়। মা জ্যোৎস্না রানী রায় ও এক প্রতিবন্ধী বড় বোন প্রমিলা রানী রায় আছে।  রিতা রাণীর শারীরিক উচ্চতা ২ ফুট ৪ ইঞ্চি । বর্তমান বয়স ২১ বছর।

পিতৃহারা এ মেয়েটি এখন বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগে স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্রী। শারীরিক প্রতিবন্ধী রীতার অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছ দারিদ্র্যতা। পিতার অবর্তমানে সংসারে অসুস্থ মা জোস্না রাণী রায়কে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শিবরামপুর ইউপির গোবিন্দপাড়া গ্রামের মৃত যদু বর্মনের মেয়ে রীতা রানী রায়। বাবা গোবিন্দ বর্মন যদু মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত  ‘দি রওশন সার্কাসে’ কাজ করেছেন।  প্রতিবন্ধী রীতা রানী অসুস্থ মাকে নিয়ে বাঁশের তৈরি জীর্ণ খুপরি ঘরে থাকেন। মা জোস্না রাণী রায়  কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান। তার এ অবস্থা দেখে দিনাজপুর প্রেসক্লাব ও ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতি ইতিমধ্যে একটি দোচালা টিনের ঘর করে দিয়েছে।

বীরগঞ্জের শারীরিক প্রতিবন্ধী রিতা রায় ১১মাস বয়স থেকেই কঠিন দারিদ্র্যতার সঙ্গে যুদ্ধ করে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছেন। লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছে থাকায় তার বিধবা মা জোস্না রানী রায়  মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ এবং দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে লেখাপড়ার খরচ জোগান দিয়ে আসছেন। প্রাইভেট পড়া ছাড়াই সে ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় (৩ দশমিক ৬৩) পয়েন্ট পেয়ে মানবিক বিভাগে বি গ্রেডে পাশ করে।

এভাবে তার মা এবং বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়। ২০১৬ সালে এইচ,এস,সি পরীক্ষায় (৩ দশমিক ০০) পয়েন্ট পেয়েছে পাশ করে। এখন বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগে স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্রী।

গ্রামের বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব ২২ কিঃমিঃ পথ। যাতায়াতের এই পথ হেঁটে এবং ভিক্ষা করে বাসের ভাড়া এবং নিজেদের খাওয়ার পয়সা উঠাতে হয় তাকে। সে পড়ালেখার মাঝে দিন মুজুরের কাজও করতে হয় তাকে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী রিতা রায় জানান, আজ যতটুকু শিক্ষার আলো সে পেয়েছে সমস্তটাই তার মায়ের অবদান। প্রতিবন্ধী দুই বোনের মধ্যে সে ছোট, বড় বোন প্রমিলাও প্রতিবন্ধী। তাকে গ্রামেই কৃষিকাজ করা এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে তার মা। তাদের সংসারে এক কন্যা শিশু রয়েছে।

রিতা রায় তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের প্রবল ইচ্ছে রয়েছে তার। শিক্ষক হয়ে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠির হয়ে কাজ করতে চায় সে।

বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খয়রুল ইসলাম চৌধুরী  জানায় , শিক্ষার প্রতি অধম্য অগ্রহ শারীরিক প্রতিবন্ধী রীতা রানী রায়কে অনেক দূর নিয়ে যাবে। কলেজ থেকে বিনামুল্যে বই , কলেজ ফি ও পরীক্ষার ফি,  মওকুব করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফরম ফিলাফের ক্ষেত্রেও  বিবেচনা করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category