,

শেষ উদ্ধার অভিযান, ১৭ লাশ উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে পানগুছি নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিন শনিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় ফেরীঘাটে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে নৌকাডুবির পর স্বজনদের কাছ থেকে ২২ জন নিখোঁজের তালিকা পাওয়া যায়। তালিকাভুক্ত নিখোঁজ তিন জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বাকি ১৯ জনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযানে নামে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। পাঁচদিনের অভিযানে ইতিমধ্যে শিশু ও নারীসহ ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ বাকি দুই শিশুর সন্ধানে কাজ করবে উপজেলা প্রসাশন।

নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা ও উপজেলা প্রসাশন ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহয়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

এসময় নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরিয়ার আকন, শরণখোলা কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার (সিপিও) ফরিদ আহমেদ, বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মাসুদুর রহমান, থানার ওসি রাশেদুল আলমসহ উদ্ধারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

উদ্ধারকৃতরা হলেন কাঁচিকাটা গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে আব্দুল মজিদ (৭৫), নাসির শেখের ছেলে নাজমুল শেখ (৬), বুরুজবাড়িয়া গ্রামের গফুর হাওলাদারের ছেলে আনসার আলী হাওলাদার (৫০), মৃত. গফফার হাওলাদারের ছেলে সুলতান হাওলাদার (৬০), বলইবুনিয়া গ্রামের আলম চাপরাশির ছেলে সাজ্জাদ চাপরাশী (২) শরণখোলার রায়েন্দা গ্রামের শামসুল হুদার ছেলে আল সামস (১৬), ছোলমবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল সালামের ছেলে রফিক (৩৫), চিংড়াখালীর গোপালপুর গ্রামের তবিবুর রহমানের স্ত্রী মুন্নী বেগম (৩৫), চিংড়াখালী গ্রামের মৃত. ইউনুস আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৭৫), কালিকাবাড়ি গ্রামের মহসীন হাওলাদারের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৮), গুয়াবাড়য়া গ্রামের মৃত. হাসেম হাওলাদারের স্ত্রী সিয়াম বানু, ফুলহাতা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী নাদিরা বেগম, পুটিখালী গ্রামের নওয়াব আলীর স্ত্রী রিমা বেগম (২২), বারইখালী গ্রামের বশির আলীর স্ত্রী লাবনী বেগম (১৮), শরণখোলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের পুলিশ সদস্য জাহিদ হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩২) ও পিরোজপুরের বালিপাড়া গ্রামের খলিল তালুকদারের স্ত্রী নাসরীন বেগম (২৮)।

এদিকে, নৌকাডুবির ঘটনায় উত্তরসুতালড়ী গ্রামের মহসীন হোসেনের ছেলে হাসিব (৬) ও শরণখোলার পল্লীমঙ্গল গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ১০ মাসের শিশু সন্তান রাহাত নামের আরো দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছোলমবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের খেয়াঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা প্রায় ৫০-৬০ জন যাত্রী নিয়ে মোড়েলগঞ্জ বাজার ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসময় বিপরীত দিক থেকে মংলাগামী নৌবাহিনীর জাহাজ (পি-৩১২) দ্রুতগতিতে চালিয়ে গেলে ঢেউয়ের কবলে পড়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকাটি পানিতে উল্টে ডুবে যায়। 

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category