,

ভোটে দ্বন্দ্বের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে: হানিফ

ষ্টাফ রিপোর্টার: দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স মিলানায়তনে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের সময় দলের মধ্যে গ্রুপিং বা ছোটখাট দ্বন্দ্বের কারণে নেতিবাচক কিছু প্রভাব পড়ে। যেটা কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঘটেছে।

কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে, সকল তথ্য নিয়ে আসতে। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। দলের মধ্যে পদে থেকে যারা দলকে বার বার বিপদের মুখে ঠেলে দিবে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ বা দ্বন্দ্বের কারণে, এটা বরদাস করা হবে না। যারা নির্বাচনের সময় সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিয়েছে বা দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে, কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

কুমিল্লা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বক্তব্যে সমালোচনা করে তিনি বলেন, গতকালকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি থেকে একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করা হলো। তারা বললো সেখানে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, অমুক করা হচ্ছে। সেখানে কোন কিছুই কিন্তু হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। বিএনপি থেকে বললো নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোট করতে ব্যর্থ হয়েছে। তো কোথায় ব্যর্থ হলো?

তিনি আরো বলেন, ওরা কালকে জয়লাভের পর বলেছেন এই জয় প্রমাণ করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আস্থা। সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা প্রমাণ হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ‘স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আস্থা প্রমাণ হয় না’ এই বোধটুকু যাদের মধ্যে নেই তাদের কাছে জাতি খুব বেশি কিছু আশাও করতে পারে না।

স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে জাতীয় নির্বাচন মাপার কোন সুযোগ নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান, মেম্বার পৌরসভার মেয়র এদের ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক, সমাজিক, গোষ্ঠীগত অবস্থা ও আঞ্চলিকতা বিবেচনা করে ভোটাররা ভোট দেয়। এই নির্বাচন দিয়ে জাতীয় নির্বাচন মাপার কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে যদি আপনারা মনে করেন জনগণ আপনাদের পাশে, আপনাদের পক্ষে আছে আসুন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনারা প্রস্তুত হন। সেই নির্বাচনে প্রমাণ হবে। নির্বাচন থেকে আগেই আপনারা পালিয়ে গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে। আমরা আশা করবো আগামী নির্বাচনে আসুন, ভোটে নামুন। জনগণের আস্থা কার প্রতি আছে, কোন দলের প্রতি আছে সেটা প্রমাণ হয়ে যাবে।

জঙ্গি ইস্যুতে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, জঙ্গি দমনের সময় বিএনপি এদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। এদের জন্যে এত দরদ কেন? যে জঙ্গি মানুষ হত্যা করছে তাদের ধরার সময় যদি মারা যায় তাদের জন্য আপনাদের এত দরদ কেন? এই সমস্ত বিবৃতিতে প্রমাণ হয় জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

‘জঙ্গি দমনে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’-বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কার সাথে ঐক্য? যারা জঙ্গিদের পুষ্ঠপোষকতা করে তাদের সাথে ঐক্য করে কি লাভ হবে? বেগম খালেদা জিয়া ঐক্য করতে চাচ্ছে জঙ্গিদেরকে রক্ষা করার জন্য। আজকে প্রমাণিত হযেছে দেশে সমস্ত সন্ত্রাসী সংগঠন, মৌলবাদী সংগঠন সব সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায়।

বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির সভাপতি ইসমাঈল হোসেনের সভাপতিত্বে আরো

উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category