,

বড়হাটে অভিযানকালে পুলিশ সদস্য আহত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে ‘জঙ্গি আস্তানা’য় অভিযান চলাকালে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে অভিযানস্থল থেকে পুলিশের এক সদস্যকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, অ্যাম্বুলেন্সে করে যাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, তার নাম কয়সর। তিনি জেলা পুলিশের কনস্টেবল। তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

গুরুতর কিছু হয়নি জানিয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি রওশন-উদ-জামান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণে হয়তো জানালার কাচ ভেঙে তা উড়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যের গায়ে লেগেছে।

জঙ্গি আস্তানাটিতে শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া ‘অপারেশন মেক্সিমাস’ চলাকালে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে টানা গুলি শুরু হয়। ১২টা ১০,১২টা ৩৫ ও ১২টা ৫০ মিনিটে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে শোনা যায়। পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের মধ্যেই মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছু সময় পর অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অভিযানে সহায়তা করছে। এরপর থেকে ওই এলাকায় থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকেও শহরের আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা বাড়িটির আশপাশ থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়।

ওই জঙ্গি আস্তানার আশপাশের এলাকায় গত বুধবার থেকেই ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। বন্ধ রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল বড়হাট এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সরিয়ে দেয়ার কাজ তদারকি করছেন। সাংবাদিকরাও যেন জটলা বেঁধে এ এলাকায় দাঁড়িয়ে না থাকেন সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তারা মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলিতে দোতলা বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা হিসেবে সনাক্ত করে ঘিরে রাখেন। ওই বাড়ি ঘিরে রাখার পর সেখানকার তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বুধবার ভোরে শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাসিরপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানাটি সনাক্ত করা হয়।

প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর বৃহস্পতিবার নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে ‘ছিন্নভিন্ন সাত থেকে আটজনের লাশের অংশ’ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বুধবার বিকেলেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা নিহত হয়। তারা একই পরিবারের সদস্য।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category