,

কুসিক নির্বাচনে ন্যায়ের জয় হয়েছে: রিজভী

ঢাকা অফিস : কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, জোর করে সিল মারাসহ নানা অনিয়মের মধ্যেও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বিজয়ী হয়েছেন। যদি এসব অনিয়ম না হতো তাহলে বিএনপি প্রার্থী দেড় লক্ষাধিক ভোটে বিজয়ী হতেন।

শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ভোট শুরুর দু’দিন আগ থেকে নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। নির্বাচনের আগের দিন রাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধানের শীষের এজেন্ট না হতে চাপ প্রয়োগ করে। এমনকি মামলা-হামলা ও নির্যাতনের ভয় দেখানো হয়। ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এমনকি কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়। অনেক কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের কাছে পুলিশ নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ভোট চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোট দিতে বাধার সৃষ্টি করে। নৌকার প্রার্থীর লোকেরা এলাকায় এলাকায় মহড়া দিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায় সেজন্য আতংক সৃষ্টি করে। এমনকি অনেক ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। নির্বাচনে অনিয়মের কিছু চিত্র গতকাল আপনাদের সামনে আমরা তুলে ধরেছিলাম। এছাড়া আজকের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কুসিক নির্বাচনের সচিত্র প্রতিবেদন আপনারা দেখেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল বলেছেন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজকে বলেছেন-কুমিল্লা নির্বাচন প্রমাণ করে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। ককটেল বোমা ফাটিয়ে ভোট কেন্দ্রে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, কেন্দ্র দখল করে ব্যাপক জাল ভোট দেয়া, ব্যালট ছিনতাই করা, ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে না যেতে পারে সেজন্য বাধা সৃষ্টি করা, আগের রাতে এলাকায় এলাকায় দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভীতি সৃষ্টি করা, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারের অসহায়ত্বই হলো আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনের নমূনা। বর্তমান সিইসি যতোই সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলুন না কেন তিনি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আব্দুস সালাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মো. মুনির হোসেন প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category