,

কুমারখালীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কালনী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নদীর তীর সংর¶ণ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসনও। এসব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে গেলে তাদের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ববরার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার কুশলীবাসা এলাকার কালনী নদী থেকে অবৈধভাবে মিনি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছে জোতপাড়া, কুশলীবাসা এলাকার শামসুল আলমের ছেলে রফিকুল ইসলাম সাচ্চু, তার ছেলে শিশিরউজ্জামান সোহান, মকছেদ আলীর ছেলে রেজাউল হক বাবলু ও তার ছেলে সজিব এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা সরকারীভাবে কোন অনুমোদন না নিয়ে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। নদীর তলদেশ থেকে এভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনের ফলে সরকার যেমন একদিকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের উপর বিপর্যয় পড়ছে। কুশলীবাসা এলাকার খন্দকার মশিউজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ীর পাশে উত্তোলনকৃত বালু স্তুপ করে রাখার ফলে গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে এবং তার বাড়ীর সামনে বালুর স্তুপ সরানোর জন্য উল্লেখিত ব্যক্তিদের অনুরোধ করলে তারা আমার ও আমার পরিবারের উপর চড়াও হয়। এমনকি আমাদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়। বর্তমানে আমরা জীবনের নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি বলেও জানান। এবিষয়ে কুশলীবাসা গ্রামের খন্দকার আব্দুল কুদ্দুস, শাহীন বিশ^াস বলেন, বর্তমানে কালনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তারপর আবার ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে বর্ষার শুরুতেই নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বালু পরিবহনে অতিরিক্ত ট্রলি চলাচলের কারণে রাস্তার অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে। এবিষয়ে বালু উত্তোলনকাীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমাদের সাথে কথা বলে লাভ নেই। সরকারী কাজ ছাড়া আমরা কোন কাজ করিনা। এমপির নির্দেশে আমরা বালু উত্তোলন করে থাকি। এবং তা বিভিন্ন জায়গায় সরবাহ করে থাকি। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহেলা আক্তার বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে অবগত নন তারা। তবে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category