,

মাটি ছাড়াই তরমুজ চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হাইড্রোপনিক (মাটি বিহীন চাষ) পদ্ধতিতে তরমুজের চাষ করে সফলাতা পেয়েছে পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা।

মাটি ছাড়াই প্লাস্টিকের পাইপে সংরক্ষিত পানিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তরল আকারে প্রয়োগ করে বছর জুড়েই তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। এছাড়াও নগর কেন্দ্রিক জীবনে বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা ছাদে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তরমুজ উৎপাদন সম্ভব।

গবেষণা কেন্দ্রের এক কোণে পরীক্ষামূলক হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ করে কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ১০ ফুট প্রস্থের তরমুজ বাগানটিতে প্লাষ্টিকের পাইপে ১৪০টি তরমুজের চারা রোপন করার পর গাছে গাছে ঝুলে বড় হচ্ছে তরমুজ।

কেন্দ্রের ল্যাব সহকারী মো. বেল্লাল জানায়, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ফল পেয়েছেন তারা। এবছর আগস্ট মাসে স্থানীয় বাজার থেকে হাইব্রিড তরমুজ বীজ কিনে কেন্দ্রেই চারা করা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাগানের প্লাষ্টিকের পাইপের ছিদ্রে চারা রোপন করা হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি ফল আসতে থাকে।

তিনি বলেন, চারা রোপনের পর প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান, যেমন পটাসিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট, পটাসিয়াম নাইট্রেট, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট, ম্যাগনাসিয়াম সালফেট, ইডিটিএ আয়রন, ম্যাঙাগানিজ সালফেট, বরিক এসিড, কপার সালফেট, অ্যামনিয়াম মলিবডেট ও জিংক সালফেট বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে পাইপে নিয়মিত সরবরাহ করে ফসল উৎপাদন করা হয়।

এ পদ্ধতিতে তরমুজ বাগান করতে খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাগান করতে প্রথমে একটু খরচ বেশি হয়। কারণ প্লাষ্টিকের পাইপ কিনে তা ছিদ্র করে চারা রোপন করতে হয়। এর পর থেকে খরচ কমে যায়। প্রথমে তাদের তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০ তরমুজ বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি তরমুজ এক কেজি থেকে দুই কেজি হবে। যাদি ১০০ টাকা কেজি হয় তাহলে ১০০ তরমুজ কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা দাম হবে।

গবেষণা কেন্দ্রে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার জানান, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে এর আগে টমেটো, করলা, মরিচ, মিষ্টি মরিচের চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। তবে তরমুজে সাফল্য এবারই প্রথম। হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না, অনাবাদি জমিও চাষের আওতায় আনা যায়, আলাদাভাবে সার ও সেচের প্রয়োজন নেই, মাটি বিহীন চাষ পদ্ধতি হওয়ায় মাটিবাহিত কিংবা কৃমি জনিত কোনো রোগ হয় না, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করায় কীটপতঙ্গের আক্রমন কম, তাই কীটনাশক ব্যবহার প্রয়োজন হয় না।

তিনি আরও জানান, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ছোট এবং বড় পরিসরে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শূধু তরমুজই নয় টমেটো, করলা, কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন সবজি, ফল, ফুল সারা বছর উৎপাদন করা যায়।

এছাড়াও বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতিতে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্বল্প খরচে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে শাক সবজির আবাদ করে একদিকে যেমন পরিবারের পুষ্টির চাহিদা অপরদিকে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হতে পারবে কৃষকরা।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category