,

আমগাছগুলো এখন কুঁড়িতে ভরপুর

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ জেলার পুরনো আমবাগানগুলো বিলুপ্তি হলেও আশার কথা এখন তিনগুণ বেশি জমিতে আমচাষ হচ্ছে। পুরাতন বাগানের মধ্যে এখন একমাত্র মুজিবনগর আম্রকানন ইতিহাসের অংশ হিসেবে কোনরকম টিকে আছে। নতুন পুরনো সব বাগানেই এখন আমের কুঁড়িতে গাছগুলো ভরে গেছে।

মেহেরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য গ্রন্থের লেখক প্রবীণ সাংবাদিক তোজাম্মেল আযমসহ জেলার বিশিষ্ট প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জমিদার প্রথা চালু হবার পর থেকেই মেহেরপুরের অধিকাংশ ভূমির মালিক হল এই অঞ্চলের প্রভাবশালী কয়েকজন জমিদার। তাঁদের প্রচেষ্টায় ১৮ শতক থেকে ১৯ শতকের প্রথম পর্যায় পর্যন্ত এলাকার প্রখ্যাত ও বিশালাকার আমবাগান গড়ে তোলে। ১৯ শতক পর্যন্ত মেহেরপুরে প্রায় ৬৬২ হেক্টরের বেশি জমিতে আমবাগান ছিল। অন্যমত বাগানগুলোর মধ্যে গাঙ্গুলী বাগান (বড়বাগান) (বিলুপ্ত), নায়েব বাগান (আংশিক বিলুপ্ত) দত্ত বাগান (বিলুপ্ত), হান্দুবাবুর বাগান (আংশিক বিলুপ্ত), মল্লিক বাগান (বিলুপ্ত), রতনপুর বাগান, কেদারগঞ্জ বাগান, বৈদ্যনাথতলা আমবাগন (বর্তমানে মুজিবনগর আম্রকানন), রামনগরের রামবাবুদের বাগান, উজলপুর, কাথুলীর গোপি সুন্দরী ও বিশ্বাস বাগান (বিলুপ্ত), আমঝুপি কুঠি বাগান (বিলুপ্ত), চিৎলা ও বারাদি ফার্মের বাগান, ভাটপাড়া কুঠি বাগান (বিলুপ্ত)।

এসব বাগানসমূহে হিমসাগর, লেংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাতি, খিরসাভোগ, জামাইভোগ, ফজলি, কাঁচামিঠা, কুমড়াজালি, তবলা, খেজুর ছড়ি, পেয়ারাফুলি, নারকেল পাখি, গুলগুলি, আষাঢ়ে, আশ্বিনা, বারোমাসি, মোহনভোগ, বোম্বাই, তিলি বোম্বাই, ভুতো, বিশ্বনাথ, সিন্দুরে, বেগমপছন্দ, শাহীভোগ, রাণী, বেকু, মালসা, কলাপাহাড়ি সহ অংসখ্য নাম, রঙ, স্বাদ ও গন্ধের আমচাষ হতো।

আধুনিক নাগরিক সুবিধার কারণে আজ অধিকাংশ বাগান ও জাত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রধান বাগানগুলো শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে এ অঞ্চলের আমের স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়াতে বর্তমানে হিমসাগর, লেংড়া, বোম্বাই, বিশ্বনাথ ও ফজলি আমের চাষ ব্যাপকহারে বেড়েছে। বর্তমানে উৎপাদন সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বাগান তৈরির হিড়িক পড়ে গেছে। একান্নবতী পরিবার ভেঙ্গে ছোট ছোট পরিবার যেমন হচ্ছে তেমনভাবে বৃহদাকার বাগানের পরিবর্তে ক্ষুদ্র পরিমাণের বাগান গড়ে উঠছে। ক্রমেই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ২২ শ হেক্টর জমিতে প্রচলিত আমের পাশাপাশি ১৯৯০ এর দিক থেকে আম্রপলি, মালতি লতা ও সুবর্ণ রেখা। তেমনি দেশীয় কাঞ্চন, দোয়েল লতা ও সুন্দরীও বেশ ভালো আম বলে সমাদৃত হচ্ছে। সরেজমিনে শনিবার মেহেরপুরের বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে আমের কুঁড়িতে ভরে গেছে আমগাছগুলো।

মোবাইল ফোন টেলিটকের সচিব মো. সামসুজ্জোহা জানান, চাকরির সূত্রে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে উৎপাদিত আম খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু মেহেরপুরের আমের মধ্যে হিমসাগর আম অমৃতসম। এমন আম দেশ এবং বিদেশের কোথাও পাইনি।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেহেরপুরের আম দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু আম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি করা হয় ২০১৫ থেকে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category