,

শততম টেস্টে টাইগারদের সিংহবধ

স্পোর্টস ডেস্কঃ কলম্বোর পি সারা ওভালে শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। নিজেদের শততম টেস্ট রাঙিয়ে দেওয়ার হাতছানি ছিল বাংলাদেশের সামনে। অবশেষে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন মোস্তাফিজ-সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।

আজ শেষ দিনে বাংলাদেশকে ১৯১ রানের টার্গেট দেয় শ্রীলঙ্কা। তামিম-সৌম্য-সাকিব-মুশফিকের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের ৩২ কোটি চোখ। সময়ের সঙ্গে জয়ের সুবাস পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৬২ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিবের আউটের পর কিছুটা স্নায়ুচাপ পড়লেও দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মুশফিক। শেষ পর্যন্ত চার মেরে সিংহবধ করেই শততম টেস্টে স্মরণীয় করে রাখলো টাইগাররা।

শুধু তাই নয় এটি শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের স্বাদ। যেই পি সারা ওভাল এক দুঃস্বপ্নের নাম ভেন্যুতে নিজেদের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় তুলে সিরিজ ড্র করলো বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে নিজেদের প্রথম ইনিংসে জয়ের ভিত গড়ে দেন সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক, মুশফিক, সৌম্য, তামিমরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ৩১৯ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জয়ের পথে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে বল হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সাকিব-মোস্তাফিজ।

পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১। জয়টা তখন অল্প দূরেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শুরুতেই সৌম্য-ইমরুল ফিরে গেলে কিছুটা শঙ্কা জাগে। ৮২ রানে তামিম ফিরে গেলে আবারা শঙ্কার কালো মেঘ। তবে বাংলাদেশের স্বপ্নের তুলিতে শেষ আচর টানেন অধিনায়ক মুশফিকই।

আজ দিন শেষেও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরা ও লাকমল। নবম উইকেটে দিলরুয়ান-লাকমল ৮০ রানের জুটি গড়ে তোলেন। বোলারদের ভুগিয়ে শেষপর্যন্ত রানআউটের খড়গে কাটা পড়ে মাঠ ছাড়েন দিলরুয়ান পেরেরা। মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ৫০ রানে শুভাশীষের হাতে রানআউটে কাটা পড়েন পেরেরা। পরে লাকমলকে আউট করেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত ৩১৯ রানে অলআউট হন শ্রীলঙ্কা।

শততম টেস্টে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রান। হাতে ছিল প্রায় তিন সেশন। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের উপর ভরসা রেখে সেই যাত্রা শুরু করে তারা টাইগাররা। কিন্তু রঙ্গনা হেরাথের স্পিনে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল মুশফিকরা। সেই চাপ থেকে কিছুটা বের হতে পেরেছে তারা তৃতীয় উইকেট জুটিতে।

হেরাথের করা ইনিংসের নবম ওভারে পঞ্চম বলে গুনারত্নের হাতে ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য। সাজঘরে ফেরার আগে ২৬ বলে ১০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। হেরাথের পরের বলেই ফিরে যান ইমরুল কায়েস (০)। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ১০৯ রানের জুটি গড়েন তামিম। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২২তম হাফসেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৮২ রানের মাথায় দিলরুয়ান পেরেরার বলে তুলে মারতে গিয়ে চান্দিমালের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। অসাধারণ ইনিংসটি সাজাতে খেলেছেন ১২৫ বল, রয়েছে সাতটি চার ও একটি বিশাল ছক্কার মার।

তামিমের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির রহমান। তিনি পেরেরার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ৭৬ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন তিনি। পেরেরার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিওন মুখি হন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার।

সাকিবের পর হেরাথের বলে ফিরে যান মোসাদ্দেক (১৩)। তাবে বাকিপথটা পাড়ি দেন মুশফিক ও মিরাজ। চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category