,

কুষ্টিয়ায় হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে মার্কিন নারী সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রী যাপনের জন্য ওঠে এক মার্কিন নারী সাংবাদিক হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন। গভীর রাতে হোটেল মালিক মদ্যপ অবস্থায় কক্ষের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। ওই সময় নারী সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে অশ¬ীল ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। ভীত হয়ে নারী সাংবাদিক কুষ্টিয়ায় তার পরিচিত এক পুরুষ বন্ধুকে ফোন দিলে তিনি এসে তাকে উদ্ধার করেন। রাতেই হোটেলের কক্ষ ছেড়ে শহরের একটি এনজিওর রেষ্ট হাউজে ওঠেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে মার্কিন নারী সাংবাদিক কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মার্কিন ওই নারী সাংবাদিক ফ্রিল্যান্স ফটো সাংবাদিক হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশে কাজ করেন।

নারী সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে,‘ গত ৫ মার্চ  কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় অভিজাত আবাসিক হোটেল ‘খেয়া’র একটি কক্ষ ভাড়া নেন রাত্রী যাপনের জন্য। হোটেলটি তার বাংলাদেশী বন্ধু ভাড়া করে দেন। গভীর রাতে (আনুমানিক রাত ১টা) হোটেলের মালিক পক্ষের একজন বিশ্বনাথ সাহা বিশু মদ্যপ অবস্থায় ওই নারীর কক্ষে গিয়ে দরজা খোলার জন্য নক করেন, একই সাথে অশ¬ীল শব্দ ব্যবহার করেন। পরে ওই নারী দরজা না খোলায় বিশু সাহা হোটেলের রেজিষ্টার থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে বারবার ফোন দিয়ে দরজা খোলার জন্য বলেন। বিরক্ত হয়ে ওই নারী সাংবাদিক তার মোবাইল এ্যারোপে¬ন মুডে দিয়ে রাখেন। এক পর্যায়ে হোটেল স্টাফদের কাছে উচ্চস্বরে কক্ষের চাবি চান বিশু সাহা। পরে জোরে জোরে ধাক্কা দেন দরজায়।

এ ঘটনায় ভীত হয়ে নারী সাংবাদিক তার পরিচিত কুষ্টিয়ার এক পুরুষ বন্ধুর কাছে মোবাইলে ফোন দেন। রাতে তিনি হোটেলে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে শহরের একটি হোটেলে গেলে তারা নারী সাংবাদিককে ফিরিয়ে দেন। রাতে খোঁজাখুজির পর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহরের উপজেলা রোডে একটি এনজিও’র রেষ্ট হাউসে ওঠেন। পরে সেখানে দুই দিন থেকে ঢাকা চলে যান।

এদিকে ওই নারী সাংবাদিক তার তীক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ওই রাতের সব কিছু ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠে। কুষ্টিয়ায় অনেকেই দু:খ প্রকাশ করে ওই নারী সাংবাদিকের কাছে মাফ চান, এবং বিচার দাবি করেন।

শহিদুল নামে একজন লিখেছেন, মামলা না, এ কাজ যারা করেছে তাদের সামাজিক ভাবে বিচার হতে হবে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদিন মন্তব্যতে লিখেছেন অবশ্যই এ অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশিষ্ট নাট্যকার কচি খন্দকার লিখেছেন আমার নিজ শহরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে শুনতে চাইনি, রাগ হচ্ছে ক্ষোভ হচ্ছে কেন এই শহরে বেড়ে উঠেছি। সেখানে একজন নারী নির্যাতন হচ্ছে আর আমরা অসহায় ভাবে দেখি যাচ্ছি। আসুন এর প্রতিরোধ করি। আরো অনেকে এ ধরনের কমেন্টস করেছেন।

এদিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসান জানান,‘ আমরা মেইলে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান জানান, আজ  রোববার সকালে (গতকাল) আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সাথে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খেয়া হোটেলের ম্যানেজার সাইদুল বারী টুটুল প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন,‘ ওই দিন একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কি হয়েছি ঠিক বলতে পারব না। তবে আপনি সরাসরি আমার সাথে দেখা করেন, সাক্ষাতে কথা বলব।

অভিযোগের ব্যাপারে হোটেল মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশু বলেন,‘ বিষয়টি আমাকে চরমভাবে বিচলিত করছে। এ বয়সে এসে আমাকে এমন একটা কথা শুনতে হচ্ছে যা লজ্জাজনক। নিজের স¤পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে জানান, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আপনারা ভালভাবে খোঁজ নিয়ে তারপর সাংবাদ পরিবেশন করেন। আমাকে হেয় করতে ও ব্যবসার ক্ষতি করতে একটি চক্র এ কাজ করছে বলে আমার প্রতীয়মান হয়।’

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category