,

বৃষ্টিতে রবি শস্যের ক্ষতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : হঠাৎ বর্ষণে তরমুজ ও মরিচসহ নানা রবি শস্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা।

টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে রবি মৌসুমের প্রায় ২৫ জাতের শস্য। রবি মৌসুমের শুরু থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি কৃষক ও জেলা কৃষি বিভাগের। কিন্তু গত তিন দিনের ভারি বর্ষণ ও দমকা বাতাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

বিশেষ করে তরমুজ, মরিচ, আলু ও ডাল চাষিরা চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে এই বৃষ্টিতে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ ও মরিচ চাষিরা।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটটি উপজেলায় এ বছর ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম, ১৭২০ হেক্টর জমিতে গোল আলু, ৪২০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু, ২৩০ হেক্টর জমিতে আখ, ৪৫০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা, ৯৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি, ১৮০৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ, ১০০০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি (ফুটি), ১০০০ হেক্টর জমিতে খিরাই, ৩০৫ হেক্টর জমিতে শসা, ৪৮২ হেক্টর জমিতে সরিষা, ৫৬০৭ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম, ২৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখি, ২০৮২ হেক্টর জমিতে তিল, ১৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, ৩৪২ হেক্টর জমিতে রসুন,৮৯২২ হেক্টর জমিতে মরিচ, ৪৯৫ হেক্টর জমিতে ধনিয়া, ২৭৩০০ হেক্টর জমিতে খেসারি, ৮২৪৪০ হেক্টর জমিতে মুগ, ৭৫০ হেক্টর জমিতে মশুরি ডাল, ১০৭৫ হেক্টর জমিতে ছোলা ডাল, ১৭০ হেক্টর জমিতে মাস কলাই ও ৬৩৬৫ হেক্টর জমিতে ফেলন ডালের আবাদ করা হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর কাউখালী গ্রামের তরমুজ চাষি জামাল মিয়া জানান, তিনি প্রতি বছরের মতো এ বছরও মহাজনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দাদন নিয়ে তরমুজের আবাদ করেছেন। রবি মৌসুমের শুরু থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের উৎপাদন নিয়ে ব্যাপক সম্ভবনা আশা করছিলেন। কিন্তু তিন দিনের বৃষ্টি তার সম্ভবনাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। লাভ তো দূরের কথা, খেত থেকে মূলধন পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

তিনি আরো জানান, এ বছর মহাজনের দেনার দায়ে তার পৈত্রিক ভিটা ত্যাগ করতে হবে।

একই গ্রামের হাজেরা বেগম জানান, তিনি একটি বে-সরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে কিছু জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তার খেত এক ফুট তলিয়ে গেছে। ফলে এ বছর তরমুজ চাষ থেকে লাভ তো দূরের কথা মূলধন আসবে কিনা তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া জানান, ৩ দিনের বৃষ্টিতে কয়েক হাজার কৃষক এখন দিশেহারা ও ক্ষতিগ্রস্ত। কিভাবে কৃষিঋণ শোধ করবে সেই চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, প্রতি বছর এ উপজেলার কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে তরমুজ, মরিচ ও ডালের আবাদ করে থাকেন। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় কৃষকের সম্ভবনাকে গুঁড়িয়ে দেয় প্রায়ই। সরকার কিংবা কোনো সংস্থা তাদের ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে দিতে এগিয়ে আসে না। এ উপজেলার মাটি তরমুজ চাষে উপযোগী হওয়ায় এ মৌসুমে যার যার সাধ্যমত তরমুজ চাষ করেন।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন জানান, তার ইউনিয়নে প্রতিবছর হাজারো চাষি তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার অধিকাংশ তরমুজখেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এ বছর কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় রবি শস্যের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক ধরনের রবিশস্য পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে। তবে টাকার অংকে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার পরিসংখ্যান না করে বলা যাবে না।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category