,

বরিশালে ধর্ষণের শিকার শিশুর মৃত্যু

বরিশাল প্রতিনিধি: ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে বরিশাল-শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস এম সিরাজুল হক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, স্বজনরা ৯ মার্চ ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রেখে মেয়েটিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। এরপর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা বুঝতে পেরে সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে পাঠায়।

তিনি আরো জানান, মেয়েটির অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাবা জানান, তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি বানারীপাড়ার একটি রাইস মিলে কাজ করেন। পাঁচ মাস আগে তার বড় মেয়েকে (ভিকটিম) ঝালকাঠি সদর উপজেলার বালিগোনা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবদুল মন্নানের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন। আবদুল মন্নান সম্পর্কে মামা শ্বশুর। কয়েকদিন আগে আবদুল মন্নান ফোনে জানান যে তার মেয়ে খুব অসুস্থ, তিনি যেন মেয়েকে নিয়ে আসেন। এরপর ৮ মার্চ আবদুল মন্নান লোক দিয়ে বানারীপাড়ায় তার বাড়িতে মেয়েকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে আনার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে মেয়ের শারীরিক অবস্থার কথা জানালে তিনি থানায় পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরো জানান, পুলিশ অবস্থা দেখে ওইদিনই মেয়েটিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পরে সেখান থেকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান।

তিনি এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, মেয়েটির মৃতদেহ বেলা আড়াইটায় ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল-শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যখন মেয়েটিকে আমাদের কাছে আনা হয়েছিল তখন সে কথাই বলতে পারেনি, তাই অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই। ঘটনাস্থল ঝালকাঠি হওয়ায় বরিশাল হাসপাতালের ওসিসি’র মাধ্যমে ঝালকাঠি থানায় এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category