,

শতভাগ সফল তারা

বিনোদন ডেক্সঃ ক্যারিয়ারে সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতাও থাকে। এটি খুব সাধারণ ব্যাপার। ক্যারিয়ারে কোনো কাজে যদি কেউ ব্যর্থ না হন তা হলেই তা বিস্ময়কর। বলিউডের বেশকিছু স্বনামধন্য পরিচালক রয়েছেন যারা বক্স অফিস বিচারে শতভাগ সফল। তাদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কয়টি সিনেমা পরিচালনা করেছেন তার কোনোটিই ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখ দেখেনি। এমন পাঁচজন পরিচালককে নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

রাজকুমার হিরানি : বলিউডের সবচেয়ে সফল পরিচালক বলা হয়ে থাকে রাজকুমার হিরানিকে। ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ সিনেমার মাধ্যমে ২০০৩ সালে পুরোদস্তুর পরিচালক হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। প্রথম সিনেমাতেই বেশ ব্যবসায়িক সফলতা পান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে নির্মাণ করেছেন ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ‘পিকে’র মতো সিনেমা। এবং পরপর এই তিনটি সিনেমাই ব্যবসায়িকভাবে ‘ব্লকবাস্টার’ হয়। রাজকুমার হিরানি নির্মিত ‘পিকে’ হলো বলিউডের ইতিহাসে সবথেকে ব্যবসাসফল সিনেমা, এখন পর্যন্ত আয় করেছে ৭৯২ কোটি রুপি। এ পর্যন্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, আইফা অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরুস্কার জিতেছেন এই পরিচালক। বর্তমানে তিনি সঞ্জয় দত্তের জীবনী নিয়ে ‘দত্ত’ শিরোনামের সিনেমা নির্মাণ করছেন।

করন জোহর : পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে ১৯৯৮ সালে ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে করন জোহরের অভিষেক হয়। মুক্তির পর অল্প সময়েই ব্লকবাস্টারের খাতায় নাম লিখে সাড়া ফেলে সিনেমাটি। এরপর তার নির্মিত ‘কাভি খুশি কাভি গম’, ‘কাভি আলবিদা না কেহনা’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমাগুলো বেশ সাড়া ফেলে। পাশাপাশি ব্যাবসায়িক সফলতাও পায়। পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি করন জোহর প্রযোজক এবং লেখক হিসেবেও কাজ করে বলিউডে সু-খ্যাতি কুড়িয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

নিরাজ পান্ডে : ভারতীয় সিনেমায় নতুন ধারা তৈরি করেছেন নিরাজ পান্ডে। বাস্তববাদী থ্রিলার সিনেমা নির্মাণে তার জুড়ি নেই। ২০০৮ সালে থ্রিলার সিনেমা ‘অ্যা ওয়েডনেজ ডে’র মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে তিনি বলিউডে পথচলা শুরু করেন। এরপর একে একে নির্মাণ করেন ‘স্পেশাল ২৬’, ‘বেবি’, ‘এমএস ধোনি : দ্য আনটোল্ড স্টোরি’র মতো সিনেমা। এ পর্যন্ত নিরাজ পান্ডে নির্মিত সবকটি সিনেমাই ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে। পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

আলী আব্বাস জাফর : ২০১১ সালে ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ সিনেমার মাধ্যমে একজন পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে আলী আব্বাস জাফরের অভিষেক ঘটে। সে বছর সিনেমাটি বেশ ব্যাবসায়িক সফলতা লাভ করে। এরপর তার পরিচালনায় ২০১৪ সালে মুক্তি পায় ‘গুন্ডে’ এবং ২০১৬ সালে মুক্তি পায় ‘সুলতান’। দুটি সিনেমাই ব্যবসায়িক সফলতা পায়। পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি এই সিনেমাগুলোর চিত্রনাট্যের কাজও করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ সিনেমার কাজ নিয়ে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এটি ‘এক থা টাইগার’ সিনেমার সিক্যুয়েল।

রাকেশ রোশান : প্রযোজক কিংবা অভিনেতা হিসেবে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও পরিচালক হিসেবে কোনো ব্যর্থতা নেই রাকেশ রোশানের। বিশেষ করে ১৯৯৫ সাল থেকে পরিচালক হিসেবে তিনি যেন নতুনরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সে বছর মুক্তি পায় তার পরিচালিত ‘করণ অর্জুন’ সিনেমাটি। মুক্তির অল্পদিনের মাথায় সিনেমাটি ব্যবসায়িক সফলতায় ব্লকবাস্টারের তালিকাভুক্ত হয়। এরপর তার পরিচালিত ‘কয়লা’, ‘কাহো না পেয়ার হে’, ‘কই মিল গায়া’, ‘ক্রিশ’, ক্রিশ-থ্রি’ একে একে মুক্তি পায় এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফলতা লাভ করে। যে কারণে শতভাগ সফল পরিচালকের তালিকায় উঠে এসেছেন রাকেশ রোশান।

এ ছাড়া বলিউডের আরো পরিচালক রয়েছেন যাদের ক্যারিয়ারে ব্যবসাসফল সিনেমা রয়েছে। তবে তার পাশাপাশি ফ্লপের খাতায় দুই একটি সিনেমা থেকে যাওয়ায় তারা ঠাঁই পাননি এই তালিকায়। পরিচালক হিসেবে আদিত্য চোপড়া  ‘বেফিকর’ সিনেমার ফ্লপের কারণে বাদ পড়েছেন এই তালিকা থেকে। এ ছাড়া ‘ফ্যান্টম’ সিনেমার জন্য কবির খান, ‘লক্ষ্য’ সিনেমার জন্য ফারহান আক্তার, ‘ইয়াহান’-এর জন্য সুজিত সরকার যুক্ত হতে পারেননি এই তালিকায়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category