,

কিশোরী কন্যাকে বলুন ৫কথা

লাইফস্টাইল ডেক্স: আপনি যখন একজন বাবা বা মা তখন সমাজের আর ১০জন মানুষের তুলনায় আপনার দায়িত্ব অনেক বেশি। আপনি একটি মানুষকে গড়ে তুলছেন, আপনার সন্তানকে। তাকে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়া, আত্মরক্ষা করতে শেখানো, নিজের সম্পর্কে সচেতন করা আপনারই দায়িত্ব। কিশোর বয়সটা খুব মারাত্মক। এ সময় একজন মানুষ শিশু পর্যায় থেকে আস্তে আস্তেবড় হচ্ছে। একই সাথে তাঁর যেমন মনে হয় সে সবই করে ফেলতে পারে, আবার সে আসলে অনেক কিছুই পারে না যা সে বুঝতে চায় না।

সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণেই আপনার কিশোর সন্তানটি যখন একটি মেয়ে তখন তাকে দিতে হয় কিছু আলাদা যত্ন। জানাতে হয় কিছু বাড়তি কথা। প্রয়োজন পড়ে একটু বেশী সচেতনতা। আসুন জেনে নিই, কিশোরীর বেড়ে ওঠায় কোন বিষয়গুলো অবশ্যই বলতে হবে তাকে।

শারীরিক পরিবর্তন স্বাভাবিক: কিশোর বয়স মানেই মনে এবং শরীরে ব্যাপক পরিবর্তন। একজন শিশু যখন এগুলো বুঝতে পারে না, কারও সাথে শেয়ার করে না তখন সে হীনমন্যতায় ভোগে, লজ্জা পায়, নিজেকে দোষারোপ করে, লুকিয়ে রাখে। অভিভাবক হিসেবে আগেই তাকে এইসব বিষয়ে সচেতন করে তুলুন। পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক, সবারই হয় এবং এতে লজ্জার কিছু নেই- এই কথাগুলো তাকে বুঝিয়ে বলুন আর উৎসাহিত করুন আপনার সাথে সব কথা শেয়ার করতে।

যৌন সম্পর্কের বয়স রয়েছে: আপনার সন্তান আপনার কাছে হয়ত ছোট। কিন্তু নাটক, সিনেমা বা উপন্যাসে প্রেমের সম্পর্কের চর্চা করতে দেখেছে সে অনেকবার। মনে মনে নিজেও চিন্তা করে নিয়েছে এমন একটি সম্পর্কের কথা। ছেলেদের সাথে তার বন্ধুত্ব হবে, কাউকে হয়ত তার ভালও লাগবে। কিন্তু সম্পর্কে কোথায় গিয়ে থামতে হয়, লিমিট কি এই বিষয়গুলো তাকে বলুন। তবে সব কিছুই বলবেন বন্ধু হয়ে। নিষেধাজ্ঞা কিশোর বয়স মানতে পারে না।

বন্ধুত্ব, প্রেম হতেই পারে: আপনার অভিভাবক মন নিশ্চয়ই এই কোথায় সাড়া দিচ্ছে না! মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে আপনি নিশ্চয়ই চান সে কোন সম্পর্কে যেন না জড়ায়! কিন্তু চাইলেও আপনি একটা মানুষের মনকে বেঁধে রাখতে পারবেন না। বরং তার বন্ধু হোন। তাকে ভাল বন্ধু বেছে নিতে সহযোগিতা করুন। আমরা অনেক সময় মেয়ে শিশুদের সুরক্ষিত করতে গিয়ে তাদের এত ভয়ের মাঝে রাখি যে তারা ছেলেদের সাথে মিশতে পারে না। এতে তারা পিছিয়ে পড়বে অনেক ক্ষেত্রেই। তাকে সাহস দিন।

ইভটিজিং নিয়ন্ত্রণ করা যায়: ইভটিজিং অবশ্যই একটি ক্রাইম! অনেক কিশোরী উত্ত্যক্ত হতে হতে এক সময় আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। কিন্তু আমাদের সমাজে মেয়েদেরকে আরও শক্ত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। কেউ শিষ দিচ্ছে, বাজে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলছে এতে তার হতাশ হওয়ার বা ব্যাথিত হওয়ার কিছু নেই। কিশোরী মেয়েটিকে শেখান নিজেকে শ্রদ্ধা করতে, সে শ্রদ্ধা যেন তাকে রুখে দাঁড়াতে শেখায়, আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরতে না দেয়। আর কোথাও যদি পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়, তাহলে আপনি তো আছেন। সে যেন সবসময় ভরসা খুঁজে পায় আপনার মাঝে।

সুন্দর হতে হবে মন-মানসিকতায়: কিশোর বয়সে নিজেকে সুন্দর করে তোলা, বাহ্যিক যত্নের প্রতি মনোযোগ দেয়া, প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করার যেন প্রতিযোগিতা থাকে মনে। এর ফলে তৈরি হয় হিংসা, অহংকার আবার বিপরীত দিকে হীনমন্যতা। আপনার সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বোঝান, সুন্দর হতে হবে মনে। বাহ্যিক সৌন্দর্য্যই সব নয়। তার হাতে তুলে দিন বই। তুলে দিন এমন সিনেমা যা তাকে পথদেখাবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category