,

কুমারখালীর স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস

কুমারখালি প্রতিনিধিঃ ১৯৭১সালে ৩রা মার্চ সকাল ৭ টায় কুমারখালীর গনমোড়ে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক রেজাউল করিম হান্নান। সেসময় উপস্হিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ মরহুম গোলাম কিবরিয়া,মরহুম আব্দুল আজিজ খান, আব্দুল মজিদ,আ স ম ওয়াহেদ পান্না,নন্দ গোপাল বিশ্বাস,পরিমল,মসলেম, ছাত্রলীগের নেতা নেত্রীরা, মহিলা নেত্রী রওশন আরা নীলা, কুমারখালী ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়,কুমারখালী এম এন হাই স্কুল, কুমারখালীর জে এন হাই স্কুল, কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা সহ কুমারখালীর জনসমাগমের সামনে শহীদ গোলাম কিবরিয়া নেতৃত্বে পতাকা কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন রেজাউল করিম হান্নান।

এ সম্মোধনে রেজাউল করিম হান্নান জানিয়েছেন যে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতারা আমাকে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সমন্বয়ককারী ছিল আ স ম ওয়াহেদ পান্না, মন্জু সাত্তার,পরিমল,গনি, নন্দ গোপাল বিশ্বাস,বারী খান। মেয়েদের মধ্যে ছিল সুফিয়া বেগম, রওশন আরা বেগম নীলা,রুবি প্রমুখ।২রা মার্চ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আ স ম আব্দুর রব একটি বাঁশের আগায় স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত পতাকা উত্তোলন করলেন। তখন আমরা আর চুপকরে থাকতে পারনি। ঐ রাতেই মসলেম দর্জি দিয়ে লাল সবুজের পতাকা তৈরি করি আর তার ভিতর হলুদ কাপড় কেটে বাংলাদেশের মানচিত্র কেটে সেলাই করে লাগিয়ে দিই। পরের দিন ৩রা মার্চ সকালে সাবেক সংসদ শহীদ মরহুম গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ এবং কুমারখালীবাসীর সামনে আমি স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি। ঐদিন কুমারখালীর গ্রামে গ্রামে প্রায় চারশত পতাকা বিতরন করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত উত্তোলনের জন্য। নুরে আলম সিদ্দিকী দুজন বৃটিশ সাংবাদিকে কুমারখালীতে এসে আমাকে বাহবা দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন একটি দেশে আর একটি দেশের স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন যেমন দুঃসাহসিক তেমনি গর্বের। আমরা স্বাধীনতার জন্য অনেক ত্যাগ কষ্ট করেছি। দিনের পর দিন না খেয়ে থেকেছি তবু স্বাধীন আমরা করবোই। দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা বাঙ্গালীর গর্বিত সন্তান।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category