,

তারেক-মিশুক হত্যায় বাসচালকের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ  পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসচালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত চালক জামিরকে ৩০৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর ‘কাগজের ফুল’ নামে নতুন একটি ছবির শুটিংয়ের লোকেশন দেখে মানিকগঞ্জ থেকে ফিরছিলেন। তারেকের প্রোডাকশন ম্যানেজার ওয়াসিম ও কর্মী জামাল এবং মাইক্রোবাসের চালক মুস্তাফিজও ওই দুর্ঘটনায় মারা যান।

দুর্ঘটনায় আহত হন ওই মাইক্রোবাসে থাকা তারেকের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চিত্রশিল্পী ঢালী আল মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলি এবং তারেকের প্রোডাকশন ইউনিটের সহকারী সাইদুল ইসলাম।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর মেহেরপুরের গাংনী থেকে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের চালক জামির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় জামির সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, মাইক্রোবাসচালকের দোষেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় দুই চালকেরই গাফিলতি ছিল।

মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার তৎকালীন এসআই লুৎফর রহমান চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের চালক জামির হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তার বিচার শুরু করেন আদালত। ২০১১ সালের শেষ দিকে জামির জামিনে মুক্তি পান।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি  বিচারক রায়ের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মুক্তির গান’ ও ‘মাটির ময়না’ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন তারেক মাসুদ। আর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘ক্যামেরা ডিরেক্টর’ মিশুক মুনীর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকও ছিলেন।

তারেক-মিশুকসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ওই ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়। শোকের ছায়া নেমে আসে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের এপিপি আফছারুল ইসলাম।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাধব সাহা বলেন, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category