,

খলিসাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্পের আইসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ

কিবরিয়া মাসুম, খলিসাকুন্ডিঃ একি কান্ড করে বেড়াচ্ছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ক্যাম্পের আইসি এসআই জাহাঙ্গীর আলম। তার বিরুদ্ধে এলাকার জনসাধারনের মুখে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ট ব্যবসায়ীরা, শ্রমিক ও দিনমজুররা। সেই সাথে তার কু-দৃষ্টির কাছে নত হতে হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজ পড়–য়া মেয়েদের। ভুক্তভূগি নারীরা ক্যাম্পে কোন প্রকার অভিযোগ দিতে গেলে তাদের কু-প্রস্তাব দিয়ে শারিরিক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করছেন তিনি। এলাকার আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের নামে করছে চাঁদাবাজি, মাদক ধ্বংসের নামে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে নিজের পকেট ভরাচ্ছেন তিনি। তার এ অত্যাচারে প্রায় অতিষ্ট খলিসাকুন্ডিবাসী। তার বিরুদ্ধে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তাদের কেউ মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করছেন তিনি।
খলিসাকুন্ডি গ্রামের মৃত জামাত আলীর মেয়ে রাহেলা খাতুন (৪০)। তিনি কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন যে ১৯৯৭ সালে খলিসাকুন্ডি গ্রামের মৃত মকবুল মোল্লার ছেলে জামাল মোল্লা তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে কুমারখালীর একটি কাজী অফিসে গিয়ে তাকে বিয়ে করেছে এমন একটি নাটক করে। সে সময় বিয়ের কাবিননামাতে জামাল মোল্লার সই জালিয়াতি করে। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে তার ২য় স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ২০ বছর যাবৎ ঘর সংসার করেন। এর মধ্যে আমি ৩বার অন্তঃস্বত্তা হয়। তার কথামতো আমি সেই সন্তান নষ্ট করে ফেলি। একপর্যায়ে তিনি আমাকে অস্বীকার করেন। আমি বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ করলে তিনি আমার অভিযোগটিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় খলিসাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমকে। আমি সেই অভিযোগ পত্রটি পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে খলিসাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জমা দেয়। তিনি আমাকে বলেন আপনার কাজ হয়ে যাবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেলেও কোন লাভ হয়নি। আমার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে গেলে তিনি আমাকে বলেন টাকা লাগবে। থানায় ওসি স্যারকে দিতে হবে। এই বলে তিনি আমার কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা দাবী করেন। পরবর্তীতে তিনি আমাকে বলেন টাকা না দিলে কাজ হবে না। তখন আমি তাকে ১৪০০ টাকা দেয়। পরে আবার ৫০০ টাকা নেয়। তবে আমার কাজ হয়নি।
প্রায় ১ মাস আগে আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে তিনি আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলেন তোমার কাজ আমি করে দেব। তবে তার জন্য আমাকে খুঁশি করতে হবে। তোমাকে টাকা পয়সা কিছু দেওয়া লাগবে না। আর আমি আসামীকে ধরে নিয়ে আসবো। তার জন্য আমাকে তোমার কাছে থাকতে দিতে হবে।” একজন পুলিশ আমাকে এমন কথা বলেছে তাই আমি ভয় পেয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হয়। বলি তাহলে আপনি এখনই আসেন। আমার মেয়ে সেটা জানতে পেরে আমাকে বলে জাহাঙ্গীর অনেক খারাপ আগে কাজ করুক তারপর যা চাই। এজন্য আমি তাকে বলি আগে আমার কাজটা করেন তার পরে আপনি যা বলবেন তাই হবে। তার পরে সে রাগান্বিত হয়ে ওঠে। আমার অভিযোগের কোন ব্যবস্থায় নেয়নি। বরং অভিযুক্তদের কাছে সব বলে দিয়েছে।
তারপর আমি ক্যাম্প থেকে আমার অভিযোগটি থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দ্যোশে গেলে তিনি আমাকে আমার অভিযোগপত্রটি দিতে অস্বীকার করেন। আমাকে বলে আমাকে খুঁশি করতে পারলে পাবি আর না হলে তুই পাবি না। তুই এই অভিযোগটি ফেরত পাওয়ার যোগ্য না।
খলিসাকুন্ডি গ্রামের আফতার আলীর মেয়ে ও আব্দুল আওয়ালের সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রানী খাতুন তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে ক্যাম্পের এসআই জাহাঙ্গীর এমন অভিযোগ করেন তিনি।
রানী খাতুন অভিযোগ করেন, আমার বাড়ীর পাশে এক মহিলা রয়েছে হোসনী খাতুন। সে প্রতিনিয়ত দেহব্যবসা করে। টাকার বিনিময়ে অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক করেন। তার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক এসআই জাহাঙ্গীরের সে ঐ মহিলাকে দিয়ে আমাকে তার সাথে শারিরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বলে। আমি তাতে রাজি হয়নি। তার পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছে। বিষয়টি আমি আমার সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্বামী আব্দুল আওয়ালকে জানালে সে এসআই জাহাঙ্গীরকে ফোন দেয়। তাকে বিষয়টি জানায়। এবং এমন কাজ না করার জন্য অনুরোধ করে। বরং ঐ এসআই তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হুমকি দেয়।
আব্দুল আওয়াল অভিযোগ করে বলেন, আমি এসআই জাহাঙ্গীরকে বোঝাতে গেলে আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। তাছাড়া তার ক্যাম্পের দালালদের বলে আমাকে যে কোন সময় ধরে এনে হাত পা ভেঙ্গে দেবে। এতে আমি একটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এই ভয়ে আমি কাজ করতে পারছি না। আমি আমার পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যাক্তি। আমি বর্তমানে এসআই জাহাঙ্গীরের ভয়ে উপার্জন করতে পারছি না।
এদিকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য করে তুলেছে এসআই জাহাঙ্গীর আলম।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দৌলতপুর থানা পুলিশের অভিযানে এলাকার অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা ভয়ে মাদক ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিলো। তবে খলিসাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর আলমের কারনে তারা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এসআই জাহাঙ্গীর আলম আর মাদক ব্যবসায়ীরা একত্রে চলাফেরা করে।
তারা আরো অভিযোগ করেন এলাকায় বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাদের উপরে বেশি কু-নজর এসআই জাহাঙ্গীর আলমের। তাছাড়া তার কু-নজর থেকে রক্ষা পাচ্ছে না স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রীরা।
তারা আরো বলেন, দেড় মাস আগে খলিসাকুন্ডি মাঝি পাড়ার বাবলু নামের এক ধর্ষককে হাতে নাতে আটক করে পরে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সাহেবকে ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ আটক করে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যপারে খলিসাকুন্ডি ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি এই এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর ভাবে দমন করছি। এতে কিছু কু-চর্ক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে।
তিনি আরো জানান, রাহেলা খাতুন যে অভিযোগটি করেছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। পরে তিনি মামলায় হেরে যান। এতে আমার কিছু করার নেই। আর আমি তাকে কোন কু-প্রস্তাব দেয়নি।


রানী খাতুনকে কু-প্রস্তাবে অভিযোগটি মিথা আর আমি কোন হোসনী কে চিনি না। তিনি টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী এবং ধর্ষককে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও অস্বীকার করেছেন।
এ ব্যপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ কবির হোসেন জানান, আমাদের কাছেও বেশ কয়েকজন সাধারন মানুষ এমন অভিযোগ করেছে। আমার মনে হয় এসআই জাহাঙ্গীর আলম খলিসাকুন্ডি ক্যাম্পে থাকলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন্য হবে। আপনারা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর মাদক দমনে কুষ্টিয়ায় পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের কোন সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে খলিসাকুন্ডি ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর আলমের এমন আচরন ও তার হাত থেকে সাধারন মানুষ ও মেয়েদের রক্ষার জন্য সাধারন মানুষ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category