,

পিপুলবাড়িয়ায় নেই শহীদ মিনার

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী সেদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মাতৃভাষা বাংলা করার দাবী জানিয়ে বাঙ্গালী ছাত্র সমাজের বিশাল মিছিলে অতর্কিত গুলি চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। সে গুলিতে শহীদ হন রফিক , জব্বার, বরকত, সালামসহ আরো অনেকেই । এ ইতিহাস সবারই জানা। শহীদদের স্মরণে সমগ্র দেশে ও প্রায় প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলার পিপুলবাড়িয়ায় এখনো গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার । ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না।এসব প্রতিষ্ঠানে শুধু জাতীয় পতাকা ও দোয়া পালন করেন শিক্ষার্থী শিক্ষকরাসহ সর্বস্তরের মানুষ। অথচ সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন করার নির্দেশ থাকলেও পিপুলবাড়িয়া এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না বর্তমান নতুন প্রজন্ম। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক শহীদ দিবস মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই প্রতিবছর সারবিশ্বে দিবসটি পালিত হয় তবে উপজেলার পিপুলবাড়িয়া এলাকায় মাতৃভাষা দিবসটি পালিত হয় হ-য-ব-র-ল ভাবে। হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক স্কুলগুলোতে দিবসটি পালিত হয় জাতীয় পতাকা দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে না উঠায় গুরুত্ব হারাচ্ছে দিবসটি। শিক্ষার্থীর বঞ্চিত হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ থেকে । ফলে নানা ক্ষোভ বিরাজ করছে ভাষা প্রেমিকদের মাঝে। ছিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোরবান আলী বলেন, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণে আজও এলাকার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না গড়ে উঠায় শিক্ষার্থীদের ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা ও স্মরন করতে পারেন না। পিপুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরোজুল ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষার জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণ করতে পারেন না অনেকে। আমাদেরে এলাকায় গড়ে উঠেনি কোন শহীদ মিনার।এই এলাকায় ৫টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে পিপুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিপুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিপুলবাড়িয়া আহ্সানিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও শাপলা প্রি ক্যাডেট স্কুল। স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনসহ কোন ব্যক্তির উদ্যোগে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার মানুষ। প্রতিষ্ঠানে যদি শহীদ মিনার থাকত তাহলে ভাষার গুরুত্ব ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, দো’আ, আলোচনা সভা ছড়িয়ে পড়ত সবার মাঝে। তৃণমূল পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিপুলবাড়িয়ায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিপুলবাড়িয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার নির্মাণ করা দাবী শিক্ষক ও ভাষাপ্রেমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাকর্মকর্তাগণসহ সর্বস্থরে মানুষের।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category