,

বিষাক্ত দ্রব্য খেয়ে তিন শিশু আইসিইউতে

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ জেলায় অসতর্কভাবে ফেলে রাখা বিষাক্ত দ্রব্য খেয়ে তিন শিশু আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ভর্তি রয়েছে।

জেলা সদরের ভাবানীপুর এলাকায় শুক্রবার বিকেলে ওই তিন শিশু বিষাক্ত দ্রব্য পান করলে রাতে তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

তিন শিশুর মধ্যে দু’জন সালমান (৫) ও সালমা (৫) একই এলাকার রমিজ উদ্দিনের জমজ সন্তান। অপর শিশু তাদের ভাড়াটিয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার মেয়ে সাদিয়া (৪)।

শিশু সালমান ও সালমার দাদা মজনু মিয়া জানান, প্রতিদিনের মতো তার নাতি সালমান ও নাতনী সালমা প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার মেয়ে সাদিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশে খেলতে যায়। এক পার্যায়ে তারা স্থানীয় মিলন মিয়ার ভঙ্গারী দোকানের পিছনে খেলা শেষে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি ফেরার কিছুসময় পর ওই তিন শিশু বমি করতে থাকে।

পরে রক্ত বমি ও প্রসাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া শুরু করলে তাদের প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ঢাকা নেয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে শিশুদের উত্তরা রিজেন্ট হাসাপালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের  হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মিলন স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প কারখানার মেয়াদত্তীর্ণ ঔষধ, চকলেট, বাজেয়াপ্ত ও বিষাক্ত কেমিক্যালসহ নানা প্রকার খাদ্যদ্রব্য কিনে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে।

শিশুরা খেলতে গিয়ে কৌতুহল বসত হয়তো তা খেয়ে থাকতে পারে। এই সকল কারখানার বর্জ্য কেমিক্যাল উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখার বিষয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীকে এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে এতে কোনো কাজ হয়নি। শিশুদের সার্বক্ষণিক পাহাড়া দেয়াও তো সম্ভব হয় না।

ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মিলন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার এখানে কোনো বিষাক্ত কেমিক্যাল নেই। ওই তিন শিশু বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে কৃষি কাজে ব্যবহৃত কোনো  বিষাক্ত দ্রব্য পেয়ে তাই খেয়ে থাকতে পারে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category