,

ঘুষের টাকা না পেয়ে কর্মচারীকে পেটালেন প্রকৌশলী

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বদলির জন্য চাহিদা মাফিক ঘুষের টাকা না পেয়ে লালমনিরহাট জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশাহ্ মিয়ার বিরুদ্ধে অনিল চন্দ্র (২৮) নামে এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। অনিল চন্দ্র বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অনিল হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গুরু চরণ চন্দ্রের পুত্র। এছাড়া সে ওই অফিসে এমএলএস হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি বদলি নিয়ে নিজ জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় যোগদান করেন তিনি।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনিল চন্দ্রের সাথে কথা হলে তিনি জানান, লালমনিরহাট থেকে তার নিজ উপজেলা হাতীবান্ধায় বদলি করাতে নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশাহ্ মিয়ার সঙ্গে  ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়। কিন্তু তিনি এর মধ্যে ৩ হাজার টাকা দিয়ে সম্প্রতি বদলির আদেশ নিয়ে হাতীবান্ধায় যোগদান করেন তিনি। এদিকে শনিবার লালমনিরহাটের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন আসেন। তাই অফিসের অতিরিক্ত কাজের জন্য অনিলকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন প্রকৌশলী বাদশাহ্ মিয়া। সেখানে অফিসের দায়িত্ব পালনও করেন অনিল।

এই অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নিবার্হী প্রকৌশলী বাদশাহ্ মিয়া বদলির উৎকোচের বাকি টাকা দাবি করে অনিলের কাছে। কিন্তু অনিল তা পরে দিবেন বলে জানালে প্রচণ্ড গালমন্দ শুরু করে ওই প্রকৌশলী। এক পর্যায়ে গোটা অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে অনিলকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশাহ্ মিয়া। অনিলের আর্তচিৎকারে এলাকার লোকজন ও পরে সহকর্মীরা ছুটে এলে সটকে পরে বাদশাহ আলম। পরে অনিলকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন অফিসের সহকর্মীরা।

অনিল চন্দ্র আরো বলেন, মন্ত্রী আসার খবরে আমাকে প্রায় ১৬ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হয় অফিসে। এরপরেও তিনি (নিবার্হী প্রকৌশলী) আমার বদলীর বাকী টাকা (১০ হাজারের মধ্যে ৭০০০) না পেয়ে বাবা-মা তুলে গালিগালাজ শুরু করেন। আমি পরে টাকা দিবো বলতেই, তিনি আমার গলা চিপে ধরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর হাত ও পা দিয়ে সমানতালে মারতে থাকে। ওইসময় লোকজন না এলে তিনি হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলীর বাদশাহ্ মিয়ার কার্যালয়ে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। এসময় তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে তিনি তার ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এবিষয়ে এখন পর্যন্ত (শনিবার দুপুর) কেউ অভিযোগ করেনি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category