,

কুষ্টিয়ায় শিশু ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পেইন

আব্দুর রাজ্জাকঃ আজকের শিশু আগামী দিনের কর্ণধার বা ভবিষ্যৎ। তাই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে রাষ্ট্রসমূহ সচেষ্ট। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার ডিক্লারেশনে বলা হয়েছে, শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যান্সার। শিশুদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৫ ফেব্র“য়ারি আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয়। পৃথিবীর ৯০টি দেশের ১৭৮টি জাতীয় সংগঠনের সম্মিলিত মঞ্চ ‘চাইল্ডহুড ক্যান্সার ইন্টারন্যাশনাল’ এর উদ্যোগে ২০০২ সালে এ দিবসটি প্রবর্তিত হয়। শিশুদের ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ এবং আক্রান্ত শিশুদের নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে এ দিবসটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল সকালে সাফ‘র আয়োজনে আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশু ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষে সরকারী জেনারেল হাসপাতালে লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। সাফ‘র নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক এ পরিচালনায় লিফলেট ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহন করেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: আহম্মদ বদরুদদোজা, ইএনটি কনসালটেন্ট ডা: এমএ মান্নান, মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা: এএসএম মুসা কবির, সার্জারী কনসালটেন্ট ডা: আশরাফ-উল হক দারা, আরএমও ডা: অরবিন্দু পাল, বীরমুক্তিযোদ্ধা জেলা কমানডেন্ট হাজী মো: রফিকুল আলম টুকু, পরিবেশবিদ গৌতম কুমার রায়, অবসরপ্রাপ্ত ওসি মো: জাকির হোসেন, মাষ্টার মনিরুল ইসলাম, রেজাউল সার্জিকেলের পরিচালক কাজী রেজাউল আলম, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি মো: মুকুল খসরু, নিউ নেশন এর প্রতিনিধি কাজী ওয়াসিউর রহমান প্রমুখ। বক্তাগণ বলেন, ক্যান্সার শিশুদের জন্য একটি নীরব ঘাতক হিসাবে চিহ্নিত। পৃথিবীতে ক্যান্সারে আক্রান্ত যত শিশু রয়েছে তার ৯০ ভাগই দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশে বসবাস করে। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র ১জন উন্নত চিকিৎসা পায়। সমগ্র দুনিয়ায় প্রতিবছর ২ লাখের কাছাকাছি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এসব শিশুর ৮০ শতাংশেরই বাস মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে ক্যান্সার আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার ৫ শতাংশ। শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রবণতা ব্লাড ক্যান্সার এর পরে রয়েছে চোখের ক্যান্সার, স্নায়ুকোষের ক্যান্সার,কিডনির ক্যান্সার, ব্রেন টিউমার, বোন টিউমার, ব্লাড টিউমার ইত্যাদি। আবার লিউকেমিয়া, লিস্ফোমা, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে টিউমার, ফুসফুস, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি বংশগত কারনে হতে পারে। যে সকল বাঁচ্চাদের “ডাউন সিনড্রোম” আছে তাদের এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান, ইউভি রশ্মি ইত্যাদি কারনেও ক্যান্সার হতে পারে। বিশেষজ্ঞ বলেন, ক্যান্সারের আরও লক্ষনগুলো হলো-শিশু খুব দ্রুত ফ্যাকাশে হয়ে যায়, পেটে অস্বাভাবিক চাকা অনুভূত হয়, শরীরের লাল বা কালো চাকা দেখা যায়, দ্রুত ওজন কমে যায়, অস্বাভাবিক ব্যথা হয়, ঘন ঘন জ্বর হয়, পেট-গলা-কুচকি বা বগলে গোটা বের হয়, চোখের মনি সাদা হয়ে যায়, হাড় বা হাড়ের কোন প্রান্ত বা অস্থিসন্ধি ফুলে যায়, বিনা আঘাতে রক্তপাত হয়। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেককেই প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অর্থাৎ অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং চর্বি বিশেষ করে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, কোমল পানীয় পান, চিপস, ফাস্টফুড,অপর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, দূষণজনিত সমস্যা, ও অত্যধিক মদ্যপান থেকে বিরত থাকা অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুরুতেই শনাক্ত ও চিকিৎসা পেলে ৭০ শতাংশ ক্যান্সারই আরোগ্য হয়। প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে ভাল। তাই আমাদের মাঝে সচেতনতাবোধ জাগ্রত করা একান্ত অপরিহার্য্য।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category