,

কীভাবে এল ফুলের মুকুট বা ফ্লাওয়ার ক্রাউন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত কয়েক বছর ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকে পরেছে ফুলের মুকুট বা ফ্লাওয়ার ক্রাউন। গায়ে হলুদ কিংবা স্কুল, কলেজ কিংবা ভার্সিটির অনুষ্ঠানগুলোতে ফ্লাওয়ার ক্রাউনে ছাড়া চলেই না।

আর পয়লা ফাল্গুন কিংবা ভালোবাসা দিবসে? নিশ্চয়ই রাস্তায় রাস্তায় ছেয়ে গেছে ফ্লাওয়ার ক্রাউন সম্বলিত উৎসব মুখর নারী মুখ! এখন অলি গলিতেও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ফ্লাওয়ার ক্রাউন। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এটা এখন চাহিদার তুঙ্গে। যেন ফ্লাওয়ার ক্রাউন ছাড়া মেয়েদের উৎসব পূর্ণতা পায় না।

তবে এটা কিন্তু আমাদের ঐতিহ্য নয়। এমনকি এশিয়ারও বলা যায় না। তাহলে কিভাবে এলো এই ফ্লাওয়ার ক্রাউনের প্রচলন? চলুন দেখি-

প্রাচীন গ্রিস : প্রাচীন গ্রিসে বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে স্রষ্টাকে খুশি করার জন্যে পরা হতো ফ্লাওয়ার ক্রাউন। এবং সেই সময় থেকে লরেল পাতার তৈরি ফ্লাওয়ার ক্রাউন একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়। একটা সময় প্রাচীন গ্রিসের মেয়েরা এটা বিভিন্ন উৎসবেও পরতো। তাছাড়া যুদ্ধে জয়ী বীরদেরও ফ্লাওয়ার ক্রাউন পরিয়ে সম্মান জানানো হতো।

মধ্যযুগের ইউরোপ : মধ্যযুগে এটা ইউরোপের ফ্যাশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কেননা তখন এটা ইউরোপের মূর্তি পূজারীরা পরিধান করতেন। সেখান থেকে এটা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যায়। তবে ব্লাশফেমি আইনে তখন এর নিন্দা করা হয়।

ইউক্রেন : ইউক্রেনের ফ্যাশনের অংশ ছিল এটা। একে সেখানে ‘ভাইনক’ নামে ডাকা হয়। বিবাহের উপযুক্ত মেয়েরা এটা বেশি পরিধান করতো। বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে এর প্রচলন ছিল। বর্তমানে শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয় বরং সব ধরনের উৎসবে পরা হয় ফ্লাওয়ার ক্রাউন।

প্রাচীন চীনে : প্রাচীন চীনে এর ব্যবহার ছিল। তারা কমলা ফুল দিয়ে এটা তৈরি করতো। এটা চীনা বিয়ের রীতি ছিল। একে সন্তান ধারণের প্রতীক হিসেবে ধরা হতো।

ভিক্টোরিয়ান যুগ : সাদা বিয়ের গাউনের মতো ভিক্টোরিয়ান যুগে কমলা ফুলের ফ্লাওয়ার ক্রাউনও বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তারাও এটা চীনাদের মতো সন্তান ধারণের প্রতীক মনে করতো। ১৮৪০ সালে রানী ভিক্টোরিয়া প্রিন্স আলবার্টের সঙ্গে বিয়ের সময় সাদা গাউনের সঙ্গে কমলা ফুলের ফ্লাওয়ার ক্রাউন পরেছিলেন।

আমেরিকা : আমেরিকাতে ১৯৬০ এর দশকে এর প্রচলন দেখা যায়। তবে সেখানে এটা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেই ব্যবহার করা হতো। শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে এটাও আমেরিকানদের বিয়ের উৎসবগুলোতে স্থান করে নেয়।

আর বর্তমানে এটাকে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেই ধরা হয়। নিজের মনের সবটুকু ভালোবাসা ও পবিত্রতা ফুটিয়ে তুলতে ফুলের সৌন্দর্য এবং পবিত্রতার আশ্রয় নেয়া। ফ্লাওয়ার ক্রাউন আমাদের সংস্কৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হলেও খুব দ্রুত এর প্রসার ঘটেছে। আজ বাইরে গেলেই টের পাবেন!

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category