,

সেচে সৌর প্লান্ট, বাড়ছে ফলন

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত চারটি সেচ পাম্প স্থাপন করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। প্রতিটি সেচ পাম্পের মাধ্যমে ৩০০ বিঘা জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। বিএমডিএ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা বলেন, পাম্পগুলোর মাধ্যমে সেচ দিলে জমির ফলন ১০ থেকে ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিএমডিএ জানায়, উপজেলার সারাংপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে পানি তুলে বিএমডিএ একটি খাড়ির মাধ্যমে মাঠে পাঠায়। এই খাড়ি থেকে আবার পানি তুলে জমিতে দেয়ার জন্য উপজেলার জগপুর, সুলতানগঞ্জ, কালীপুকুর ও পাহাড়পুরে চারটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব এলাকার এক হাজার ২০০ বিঘা জমিতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেয়া হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের সাশ্রয় যেমন হচ্ছে, তেমনি ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহারও কমছে।

পাহাড়পুর এলাকার কৃষক কুদরত আলী (৫০) বলেন, খাড়ির পানিতে জমিতে সেচ দিলে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএমডিএ’র গভীর নলকূপের পানিতে সেচ দিলে আগে যে ফলন পাওয়া যেত তার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি ফলন ফলছে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে নদীর পানিতে সেচ দিলে। তাই পাশে বিএমডিএ’র গভীর নলকূপ থাকলেও কৃষকরা সৌর পাম্পের দিকে ঝুঁকছেন।

জগপুর এলাকার কৃষক মইদুল ইসলাম জানান, আগে তার জমিতে রোপা আমন চাষ করা গেলেও বাকি সময় সেচের অভাবে কোনো ফসলের আবাদ হতো না। এখন সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করায় সারা বছরই তার জমিতে আবাদ হচ্ছে।

বিএমডিএ’র গোদাগাড়ী জোন-১ এর সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ জিল্লুল বারী বলেন, সৌর পাম্পের মাধ্যমে যে পানি জমিতে যাচ্ছে, তা আসলে পদ্মা নদীর পানি। এই পানিতে পলি থাকে। তাই এই পানি জমিতে সেচ দিলে জমির উর্বরতা শক্তি বেড়ে যায়। আর এ কারণেই জমির ফলন ১০ থেকে ১৫ ভাগ পর্যন্ত বাড়ছে। এ কারণে কৃষকরা সৌর পাম্পের পানিতে সেচ দিতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। দিনে সূর্যের আলো থাকা পর্যন্ত পাম্পগুলো একটানা চলছে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার যেমন কমছে, তেমনি ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপরও চাপ কমছে।

সৈয়দ জিল্লুল বারী জানান, চারটি সৌর পাম্পের ফলাফল ভালো পাওয়ায় গোদাগাড়ীতে আরো ছয়টি সৌর পাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। তখন আরো দুই হাজার ৪০০ বিঘা জমি নদীর পানির সেচের আওতায় আসবে। পাম্পগুলো বিএমডিএ অফিস থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অনলাইনে সেচ পাম্প বন্ধ ও চালু করা ছাড়াও পাওয়ার কমানো এবং বাড়ানো যাবে। প্রতিটি সেচ পাম্প বসাতে ২৫ থেকে ২৭ লাখ টাকা খরচ করছে বিএমডিএ। সৌর প্যানেলসহ সব যন্ত্রপাতির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে বিক্রয়োত্তর সেবা দেবে। ফলে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে চলবে এক একটি সৌর পাম্প।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতিবছরই ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে চাষাবাদে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ঠিক সে সময় কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প। এই পাম্পের মাধ্যমে সঠিক সময়ে ফসলে সেচ দেয়া যায়। আবার এই পানি নদী থেকে আসায় পানিতে মিশে থাকা পলি জমির উর্বরতা শক্তিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে জমিতে বাড়ছে ফসলের উৎপাদন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category