,

দৌলতপুরে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ইটভাটাগুলোতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফসলি জমিতে অবৈধভাবে ইটের ভাটা গড়ে তোলায় আবাদি জমির পরিমান আশংকাজনক হারে কমছে। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জনবসতি এলাকায় অসংখ্য ইটের ভাটা নির্মাণ করায় স্থানীয়রা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
উপজেলায় ২৩ ইটের ভাটার মধ্যে মাত্র ৯ টির লাইসেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন করা না করে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ইটভাটা চালানো হচ্ছে বলে জানাগেছে।
উপজেলা পরিষদের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে অত্যান্ত ঘনবসতি এলাকা স্বরূপপুর বাজুডাঙ্গা এলাকায় নুরুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, বজলুর রহমান ও আবু বক্করের এবং পাশ্ববর্তী সাদিপুর এলাকায় মামুন হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও ইদবার আলীর এবং চককৃঞ্চপুর এলাকায় রমজান আলী ও আব্দুল হান্নানের ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। মাত্র অর্ধ কিলেমিটার এর মধ্যে ৭ টি ইটের ভাটা স্থাপনের ফলে এখানকার মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চর্মরোগ ও চোখের সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ইটভাটা মালিকরা একে পরিবেশ বান্ধব বললেও আশেপাশের এলাকার গাছপালা উজাড় করে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন কয়েক‘শত ট্রাক ভর্তি করে কাঠ এনে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। অপরদিকে সমতল ফসলি জমিতে স্থাপন করা ২৩ টি ইটভাটায় প্রায় ১৩ শ‘ বিঘা আবাদি জমি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন তা আশংকাজনক হারে সম্প্রসারণ হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন্র এলাকায় ফসলি জমিতে ইয়াছিন আলী, জহুরুল ইসলাম ও আব্দুলালাহ তিনটি ইটভাটা স্থাপন করেছে। উপজেলার খলিশাকুন্ডিতে কামাল হোসেন, রিফায়েতপুরে নজরুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম ওলি, ডাংমড়কায় জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আবুল কালাম আজাদ, শাজাহান সিরাজ ও ফজলুর রহমান, বড়গাংদিয়ায় হাবলু মোল্লা, নতুন ঝাউদিয়ায় জুয়েল হোসেন, গলাকাটিতে নজরুল ইসলাম, জয়রামপুরে মতিউর রহমান ও এন্টু বিশ্বাস জনবসতি এলাকায় কৃষি জমিতে ইটের ভাটা স্থাপন করেছে। এসকল ইটের ভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। যা মানবদেহ ও পরিবেশ কে করে তুলেছে দুর্বিসহ। একজন ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করেই আমরা ভাটা চালাচ্ছি। এদিকে এসকল ইটের ভাটায় মাটি বহন করার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রলি প্রধান সড়ক গুলোয় চলাচল করায় প্রতিদিন অসখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যে ইটভাটার গাড়িতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। পঙ্গু হয়েছে প্রায় ৯ জন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তার বক্তব্যের কোন চিত্র পাওয়া যায়নি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category