,

চাই প্রতিদিনই ভালবাসা …

অর্পন মাহমুদঃ স্রষ্টার সৃষ্টি শেষ্ঠ জীব মানুষ । আমরা স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যে শেষ্ঠ হলেও মনে হয় নিজেকেই একটু বেশী ভালবাসী এবং সৃষ্টিকর্তাকেও ভালবাসী । আর এ ভালবাসার শুরুটা সৃষ্টি থেকেই । যে কারনে মানুষের প্রতি মানুষের দয়া-মায়া, প্রেম-প্রীতি এবং ভালবাসা ও হৃদয়ের টান রয়েছে সৃষ্টির শুরু থেকেই । কিন্ত এই ভালবাসা এক দিনে ঘটা করে পালনের মানে কি ? আর কিছু উদ্ভট মানুষ ফেসবুকে একটি দিন কে ঘিরে অশ্লিল কিছু মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন এরই বা মানে কি ? মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা প্রতি ক্ষন, প্রতি মুহুর্তের ও প্রতিদিনের । প্রেম-ভালবাসা একে অপরের কাছে থেকে অবশ্যই পেতে পারে এবং ভালবাসার পাত্র হতে পারে সন্তান-সন্তানদের জন্য তাদের মা-বাবা, মা-বাবার জন্য তাদের আদরের সন্তানরা, ভাইয়ের জন্য বোন, বোনের জন্য ভাই এবং অপরাপর আত্মীয়-অনাত্মীয় যেকোনো আপনজনেরা । একজন মানবের ভালোবাসা একজন মানবীও পেতে পারেন । তবে সে ভালোবাসা হতে হবে বৈধ ও অনুমোদিত । স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা কেবল শরিয়তের অনুমোদনের গণ্ডিতেই আবদ্ধ নয়, বরং সে ভালবাসা বহুবিধ পূণ্যময় । ভালোবাসা পোষণ ও প্রকাশের বৈধ কোনো সম্পর্ক ছাড়া ইসলামে একজন মানব-মানবীর মধ্যে অন্তরের কোনো টান থাকা এবং প্রেমকে আরও গভীর করার কোনো সুযোগ নেই । ভালবাসার সূত্র ধরেই মানুষ তার পরিবার-পরিজন, আত্নীয়স্বজন ও বন্ধ-বান্ধবকে ভালবাসে । মানুষ স্রষ্টাকে ভালবাসে এবং স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে ও ভালবাসে এবং স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে ভালবেসে শেষ্ঠ জীব মানুষের জন্য এই পৃথিবীটাকে সুসজ্জিত করে গড়ছেন । সৃষ্টি জগতটাকেও মানুষ ভালবেসে প্রকৃতির ভালবাসায় নিমগ্ন হয়ে মানুষ আপনজনহীন হয়েও একে অপরের সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দেয় । অনেকে অসহায় মানুষদের বেসে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন এ ছাড়াও জীবজন্তুকে ভালবেসে নিঃস্বার্থভাবে সাহার্য্যের হাত বাড়িয়েও দেন কেউ কেউ । এটা এক জন আরেকজনের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসা । আমাদের প্রত্যেককে ইহকাল ও পরকালে সুখ-শান্তির জন্য সত্য এবং সৎ পথে থেকে আল্লাহ ও রাসুলকে ভালোবাসতে হবে । এ ছাড়া মা-বাবা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন, গরিব-দুঃখীজন ও অন্য সবাইকে মানবতার দৃষ্টিতে যথারীতি ভালোবাসতে হবে । কেননা মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথ পালন করাই স্রষ্টাপ্রেমের নামান্তর । আর ১৪ ফেব্রুয়ারী দিনটি বছরের অন্য দিনের চেয়ে আলাদা করে দেখা বা ঘটা করে পালনের মানে বা কি ? কেননা ভালোবাসার কথা বা অনুভূতি মানুষের প্রতিনিয়তই প্রকাশ করতে কোন বাধা নেই । বিশেষ কোন দিন ক্ষনের প্রয়োজন নেই । দিন ক্ষন ছাড়াও মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা থাকবে, একে অপরের প্রতি অনুভূতিও প্রকাশ করবেই । তবে বিবাহবহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশের প্রতিযোগিতায় জঘন্য পাপাচার ও অশ্লীলতায় নিমজ্জিত করার লক্ষে এক শ্রেনীর মানুষ দিনক্ষন ঠিক করে ঘটা করে পালনের সিদ্ধান্ত কে পরিহার করে মনকে প্রকৃত অর্থে মানবপ্রেমের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা একান্ত কর্তব্য হউক প্রতিটি মানুষের এটাই প্রত্যাশা ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category