,

৬৮৭ রানে ভারতের প্রথম ইনিংস ঘোষণা

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০০৭ সালে ঢাকায় ৩ উইকেটে ৬১০ রান করেছিল রাহুল দ্রাবিড়ের ভারত।

হায়দারাবাদ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ভারতের তিন ব্যাটসম্যান পেয়েছেন সেঞ্চুরির স্বাদ। এদের মধ্যে বিরাট কোহলি সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দিয়েছেন। সর্বোচ্চ ২০৪ রান করেছেন তিনি। এছাড়া মুরলি বিজয় ১০৮ ও ঋদ্ধিমান সাহা ১০৬ রান করেন।

বৃহস্পতিবার ভারতের হায়দারাবাদ রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। বল হাতে পেয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারেই জ্বলে ওঠেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। নিজের চতুর্থ ডেলিভারিতে ভারতের ওপেনার লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করেন তাসকিন। ২ রানে ফিরেন রাহুল।

রাহুলের বিদায়ের পর সর্তক অবস্থান নেয় ভারতের আরেক ওপেনার মুরালি বিজয় ও তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা চেতেশ্বর পূজারা। উইকেটের সাথে মানিয়ে নিয়ে, বাংলাদেশ বোলারদের পরিকল্পনা কব্জা করে ফেলেন তারা। ফলে ১ উইকেটে ৮৬ রান তুলে টেস্টের প্রথম সেশন করেন বিজয় ও পূজারা।

দ্বিতীয় সেশনেও ব্যাট হাতে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন বিজয় ও পূজারা। তাতে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছিলেন দু’জনই। কিন্তু পূজারার স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন অফ-স্পিনার মিরাজ। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো বাংলাদেশ দলপতির সহায়তা নিয়ে ব্যক্তিগত ৯০ রানে পূজারাকে থামান মিরাজ। এতে ভেঙ্গে যায় ১৭৮ রানের জুটি।

পূজারা তিন অংকে পা রাখতে না পারলেও, সেঞ্চুরি করেছেন বিজয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেঞ্চুরির পর খুব বেশি দূর যেতে পারেননি বিজয়। বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ১০৮ রানে থামেন বিজয়। তার ১৬০ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো।

দলীয় ২৩৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পরও রানের চাকা সচল ছিলো অধিনায়ক কোহলির ব্যাটিং দৃঢ়তায়। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ১৩০ বলে প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি করেন কোহলি। টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ১৬তম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার দলপতি। ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে ভারত। কোহিলি ১১১ ও রাহানে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম দিনে করা ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে ব্যাট কররতে নেমে আগ্রাসি মেজাজে খেলতে থাকে রাহানে ও কোহলি। দিনের প্রথমপ্রহরে আরও ১০০ রান যোগ করেন কোহলি-রাহানে জুটি। শেষ পর্যন্ত ২২২ রানের জুটি গড়ে দলীয় ৪৫৬ রানে তাইজুলের বলে ৮২ রান করে সাজঘরে ফেরেন রাহানে।

তবে অপর প্রান্তে রানের চাকা সচল রাখেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। নিজের স্বাভারসূলব ব্যাটিং করে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন এই রান মেশিন। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির পরপরই সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ৪৯৫ রানে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ব্যক্তিগত ২০৪ রান করে আউট হন।

কোহলির বিদায়ের পর অবশ্য ভাগ্য প্রসন্ন হয়নি বাংলাদেশের। সাহা ও অশ্বিন দ্রুত ব্যাট চালিয়ে ভারতের রান বাড়াতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করে আউট হন অশ্বিন। তবে সপ্তম উইকেটে ঋদ্ধিমান সাহার সাথে জাদেজা ১২০ রানের জুটি গড়েন। সাহা তুলে নেন সেঞ্চুরি। ১৫৫ বল খেলে ওয়ানডে স্টেইলে ৭টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ১০৬ রান করেন। অপর দিকে জাদেজা ৬০ রানের অনবদ্ধ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৬৬ ওভার খেলে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান করে প্রথম ইনিংস শেষ করেন।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাইজুল ৩টি, মিরাজ ২টি ও তাসকিন ১টি উইকেট নেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category