,

‘শ্রমিকদের জন্য ২০০ শয্যার হাসপাতাল হবে’

ঢাকা অফিসঃ শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, টঙ্গীতে শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের দুই’শ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। যেখানে একই মানের ১০ শয্যার একটি বার্ন ইউনিটও থাকবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের মাঝে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

টঙ্গীস্থ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় মিলনায়তনে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহম্মদের সভাপতিত্বে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আনিসুল আউয়াল, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলায়মান, শ্রমিক নেত্রী সামসুন্নাহার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টঙ্গী এলাকায় জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে নারী শ্রমিকদের আবাসনের জন্য একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের কোনো সন্তান সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে তিন লাখ টাকা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার জন্য প্রতি শিক্ষার্থীকে ওই তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া কোনো শ্রমিক ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

এসময় তিনি নিহত ৩২ জন শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে এবং আহত ৪০ জন শ্রমিকের প্রতিজনকে ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

এ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুই লাখ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংগৃহীত ফান্ড থেকে এক লাখ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে শ্রম আদালত থেকে আরও এক লাখ টাকা দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়লস লিমিটেড কারখানায় আগুন লাগার পর বহুতল ভবন ধসে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ৪০ জন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পিআরও আকতারুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে ৩২ জনকে শ্রমিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

টাম্পাকো দুর্ঘটনা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন টঙ্গী থানার এসআই সুমন ভক্ত। তিনি বলেন, ৩৯ জনের মৃত্যু হলেও তিনজনের লাশ এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

আর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৩২ জনকে শ্রমিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। বাকি চারজন সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category