,

গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপার্জন বন্ধ, দুরবস্থায় জুয়েলের পরিবার

জাহিদ হাসানঃ জুয়েল আহম্মেদ (২৮)। পেশায় ভ্যান চালক। গ্রেপ্তারের ভয়ে দিনে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না। এতে আয় বন্ধ হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুরবস্থায় পড়েছেন তিনি।

জুয়েল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কৃষক শুকচান আলীর ছেলে।

জুয়েলের উপার্জন বন্ধ হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট ভাই, স্ত্রী ও এক কন্যাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম জুয়েল। এতগুলো মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে রাতের আঁধারে ভ্যান নিয়ে জুয়েল রাস্তায় নেমেছেন ভাড়ার আশায়।

সোমবার রাত ১০টায় ভ্যান নিয়ে উপজেলার আমলা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। তিনি জানান, সারাদিন চুলা জ্বলেনি। রাতে যা আয় হবে, সেটা দিয়ে  কেজি খানেক চাল আর কিছু তরকারি কিনে বাড়ি ফিরবেন।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে জুয়েল বলেন, ‘ভাই, আমার কী অপরাধ বলতে পারেন? আমি তো ভ্যান চালক। আমি কী করলাম? আমি তো নিজেও জানি না কী হয়েছে? আমি নাকি মামলার আসামি…’ 

তিনি বলেন, ‘গত ৩০ তারিখে সারা দিন ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। তখন বাড়ির পাশের লোকজন বলেন- ‘জুয়েল তোর নামে মামলা হয়েছে’। তবে কী মামলা, কিসের মামলা-আমি কিছুই জানি না।

‘তারা আমাকে বলে আমি নাকি ১১ তারিখে মিরপুরে জাসদের কার্যালয় ভাংচুর ও আগুন দিয়েছি।’ 

জুয়েল বলেন, ‘যেদিনের ঘটনায় আমার নামে মামলা হয়েছে, সেদিন বিকেলে আমি আমলা বাজার থেকে খলিসাকুন্ডি বাজারে চাউলের বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি কখন মিরপুরে গেলাম? আর কীভাবে চাউলের বস্তা নিয়ে যেতে যেতে হামলা করলাম?’ 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুয়েল বলেন, ‘ভাই, আমি এখন অসহায় অবস্থায় পড়েছি। মিথ্যা মামলার কারণে আমার সংসারে অশান্তি বেঁধেছে। অভাবে রান্না হচ্ছে না। আমি যখন দিনের বেলায় ভ্যান চালাতাম, তখন প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা ইনকাম করতাম। রাতে ভ্যান চালিয়ে ৫০-৬০ টাকা পায়। পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াব, নাকি ভ্যান চালাব?’ 

জুয়েল প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দলের নেতা না। তবে কেন আমার নামে মামলা? আমি চাই ভ্যান চালিয়ে দুই বেলা না হোক একবেলা পেট পুরে খেতে। তারা আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাতের ঘুম আর পেটের ভাত কেড়ে নিয়েছে। আমার মতো একজন ভ্যান চালকের নামে মামলা দিয়ে, আমার পরিবারের পেটে লাথি দিয়ে নেতা হচ্ছে তারা।’

গত ১১ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার মিরপুরে আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের আমবাড়ীয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা সাবু ডাক্তারকে প্রকাশ্যে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সেদিন বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। সেদিন উপজেলা জাসদের কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গত ৩১ জানুয়ারি মিরপুর থানায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন জাসদের নেতারা। ৬১ আসামির মধ্যে ১৪ নম্বর ভ্যান চালক জুয়েল। 

এ ব্যাপারে আমলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন জানান, জাসদের নেতা-কর্মীরা মনগড়া মামলা দিয়েছে। এতে ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষকসহ নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। জুয়েল একজন ভ্যানচালক। এ মিথ্যা মামলা থেকে তাকেও বাদ দেওয়া হয়নি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category