,

স্কুলছাত্রী কনিকা হত্যা: মালেকের মৃত্যুদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্রী কনিকা হত্যা মামলায় মাদকাসক্ত বখাটে যুবক আব্দুল মালেকের (২৭) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন শিশু আদালতের বিচারক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক গোবরাতলা ইউনিয়নের দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর এসএএম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী কনিকা ঘোষকে (১৫) ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মালেক। এ সময় তার তিন সহপাঠী মরিয়ম খাতুন (১৫),তানজিলা খাতুন (১৫) ও তারিন আফরোজকেও (১৬) কুপিয়ে আহত করে।

আদালত আসামি আব্দুল মালেককে ৩২৬ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, ৩০৭ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে। এছাড়াও ৩২৪ ধারায় আসামিকে ৩ বছর কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

আদালতে রায় ঘোষণার সময় নিহত কনিকার মা ও বাদী অঞ্জলি রানী ঘোষ, ছোট বোন নবম শ্রেণির ছাত্রী কাঞ্চনা রানী ঘোষ এবং একমাত্র আসামি আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে ও সরকারি কৌঁসুলি জবদুল হক জানান, গত বছরের ২৭ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহিপুর থেকে প্রাইভেট পড়ে কনিকা ও তার তিন সহপাঠী বাড়ি ফিরছিলো। পথে মাদকাসক্ত আব্দুল মালেক হাঁসুয়া নিয়ে পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে চার স্কুলছাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়। সদর হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে কনিকা মারা যায়। এঘটনায় ওই দিনই নিহত কনিকার মা অঞ্জলি রানী ঘোষ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর আসামিকে গ্রেফতার করে পরের দিন আদালতে উপস্থিত করা হয়। আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

তিনি আরো জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার এসআই মাহমুদুর রশিদ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সার্কেল) ওয়ারেছ আলী মিয়াকে তদন্তভার দেয়া হয়। তিনি তদন্ত শেষে আসামি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

নিহত কনিকা রানী ও তার তিন সহপাঠী শিশু হওয়ায় এই মামলার বিচারকার্য গত বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে শিশু আদালতে শুরু হয়। এই মামলায় আদালতে ২১ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়। এ বছরের ২৬ জানুয়ারী উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিজ্ঞ আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন।

রায় শুনে কনিকার মা বলেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব এই রায় কার্যকরের আশা করছেন। এতে তার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবি নিযুক্ত না করায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে ছিলেন আ্যাডভোকেট সোহরাব আলী।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category