,

শেয়ালে নিয়েছে কুমিরের ৫৫টি বাচ্চা

ঢাকা অফিস: এ যেন ঠিক সেই শেয়ালের কুমিরের বাচ্চা গোনা কাহিনির পুনরাবৃত্তি। একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন করে এ গল্পের জন্ম দিয়েছে সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। ওই কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে ৫৫টি কুমিরর বাচ্চা উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বন বিভাগের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। বরং তারা সুন্দরবনের এই বড় সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিরের ৫৫টি বাচ্চা উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুধবার  দুপুরে পরিবর্তন ডটকমকে জানান করমজলের সাবেক এক কর্মচারী।

তিনি জানান, ২৯ জানুয়ারি ভোর থেকে করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ৫৫টি কুমিরের বাচ্চার কোনো হদিস মিলছে না। কুমিরের বাচ্চাগুলো শিয়ালে নিয়ে গেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও সূত্রটিকে শিয়ালে কুমিরের বাচ্চা নিয়ে গেছে বলে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা চালান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের আরেক কর্মচারী জানান, করমজলে শিয়ালের আনাগোনা নেই। এছাড়া শিয়ালে কুমিরের বাচ্চা নিয়ে গেলে কোনো সিম্পটম (রক্ত বা কুমিরের বাচ্চার ছিন্নভিন্ন শরীর) থাকত, সেটাও নেই। তাছাড়া শিয়ালের পক্ষে একরাতে অতগুলো কুমিরের বাচ্চা খাওয়াও সম্ভব নয়। বন বিভাগের ওই কর্মচারীর ধারণা, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কুমিরের বাচ্চাগুলোকে পাচার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা জানতে একাধিকবার সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এছাড়া চাঁদপাই রেঞ্জের কর্মকর্তা মেহেদি জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে করমজল প্রজননকেন্দ্রের কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএফও স্যার মঙ্গলবার এ ব্যাপারে করমজলে এসেছেন। এটা বন্যপ্রাণী দ্বারা হত্যা হতে পারে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নোনা পানির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণে ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এ কুমির প্রজননকেন্দ্র। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় কেন্দ্রটি।

শুরুতেই জেলেদের জালে ধরা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি কুমির দিয়ে কেন্দ্রের প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে মিঠা পানির দুটি নারী কুমির এবং নোনা পানির দুটি কুমির ও একটি পুরুষ কুমির রয়েছে।

কেন্দ্রের সাবেক কর্মকর্তা ও কুমির বিশেষজ্ঞ আবদুর রব জানান, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমিরের অস্তিত্ব ছিল। লবণ পানির কুমির, মিঠা পানির কুমির ও গঙ্গোত্রীয় কুমির বা ঘড়িয়াল। এর মধ্যে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালের বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন শুধু লবণ পানির কুমিরের অস্তিত্বই আছে। এরা সাধারণত ৬০-৬৫ বছর পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। আর ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

এই কেন্দ্র থেকে ডুলা হাজারা সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, পটুয়াখালী বন বিভাগ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে শতাধিক কুমির অবমুক্ত করার পর বর্তমান কেন্দ্রে কুমিরের সংখ্যা ২৭৭টি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category